বিশ্ব সংবাদ

বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোনে আড়িপাতার ঘটনা ফাঁস

পেগাসাস কেলেঙ্কারি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ফোনে নজরদারি চালানোর এক ঘটনা ফাঁস হয়েছে। ইসরাইলে তৈরি হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসাস ব্যবহার করে কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো এই নজরদারি চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গার্ডিয়ানসহ ১৬টি সংবাদপত্র  এ হ্যাকিংয়ের ঘটনা ফাঁস করেছে। খবর: বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান।

এ হ্যাকিংয়ের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ভারতের অন্তত ৩০০ রাজনীতিক, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী ও বিজ্ঞানীর নাম থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির নিউজ পোর্টাল দ্য ওয়্যার। তবে ভারত সরকার এ আড়িপাতায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ফাঁস হওয়া একটি ডেটাবেসে এ ফোন নম্বরগুলো প্রথমে পায় প্যারিসভিত্তিক সংস্থা ফরবিডেন স্টোরিজ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। পরে তারা গার্ডিয়ান, দ্য অয়্যারসহ ১৬টি সংবাদ মাধ্যমকে তা জানায়। তারা সবাই মিলে এ অনুসন্ধানের নাম দিয়েছে ‘পেগাসাস প্রজেক্ট’।

ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান এসএসও গ্রুপ পেগাসাস নামে এ ম্যালওয়্যার তৈরি করেছে, যা আইফোন কিংবা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ঢুকে ব্যবহারকারীর মেসেজ, ছবি ও ইমেইল পাচার করতে যেমন সক্ষম, তেমনি কল রেকর্ড ও গোপনে মাইক্রোফোনও চালু রাখতে পারে।

এনএসওর দাবি, অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি চালানো তাদের এ স্পাইওয়্যার তৈরির লক্ষ্য। তবে তা গোপনে ব্যবহার করতে বিভিন্ন দেশের সরকার এনএসওর গ্রাহক হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব পরিচালনাকারী ক্লডিও গুয়ারনিয়েরি বলেন, যদি কোনো ফোনে (স্মার্টফোন) পেগাসাস সফটওয়্যারটি ঢোকানো যায়, তবে এনএসওর গ্রাহক পুরো ফোনটির দখলই পেয়ে যাবে।

ফোনের মালিকের মেসেজ, কল, ছবি, ইমেইল সবই দেখা যাবে, এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের বার্তাগুলোও পড়া যাবে। গোপনে ক্যামেরা কিংবা মাইক্রোফোন চালুও করা যাবে।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া ডেটাবেইসে ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৬ সাল থেকে এনএসওর গ্রাহক তাদের বিষয়ে তৎপর ছিল।

ওই তালিকায় এই ফোন নম্বরগুলো থাকার মানে এটা নিশ্চিত নয় যে, ওই স্মার্টফোনটি পেগাসাস দিয়ে হ্যাক করা হয়েছে। তবে ‘পেগাসাস প্রজেক্ট’ এটা দৃঢ়ভাবে মনে করে, এনএসওর গ্রাহক সরকারগুলোর লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই নম্বরগুলো।

রোববার এ তালিকা প্রকাশ শুরু করার পর ১৮০ সাংবাদিকের ফোন নম্বর পাওয়া গেছে, তার মধ্যে সিএনএন, রয়টার্স, নিউইয়র্ক টাইমস, এপি ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাংবাদিক রয়েছেন। ৪৫টি দেশের ফোন নম্বর পাওয়া গেছে ওই তালিকায়, যার মধ্যে এক হাজারের বেশি নম্বর ইউরোপের দেশগুলোর।

পেগাসাসের ক্রেতা কারা, কোন কোন দেশের সরকার পেগাসাস কিনেছে, গোপনীয়তার শর্তের অজুহাতে সে তথ্য এনএসও প্রকাশ করেনি। তবে সিটিজেন ল্যাবের গবেষণায় অন্তত ৪৫টি দেশে পেগাসাসাস ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।

ওই দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, বাহরাইন, বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, ফ্রান্স, গ্রিস, ভারত, ইরাক, ইসরাইল, আইভরি কোস্ট, জর্ডান, কাজাখস্তান, কেনিয়া, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাটভিয়া, লেবানন, লিবিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নেদারল্যান্ডস, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন অঞ্চল, পোল্যান্ড, কাতার, রুয়ান্ডা, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, তাজিকিস্তান, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উগান্ডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন ও জাম্বিয়া।

দ্য ওয়্যার জানিয়েছে, ভারতের ৩০০টি নম্বরের মধ্যে ৪০ সাংবাদিক, বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা, এক বিচারপতি, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংস্থার সাবেক ও বর্তমান ব্যক্তিদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি সরকারের দুই মন্ত্রীর নম্বরও রয়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণ করে ওয়্যার জানিয়েছে, এই নম্বরগুলো ২০১৮ ও ২০১৯ সালে আড়িপাতার লক্ষ্যবস্তু ছিল। ২০১৯ সালেই ভারতে লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল। পেগাসাস কেলেঙ্কারি নিয়ে শোরগোল ওঠায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতির খবর এসেছে টাইমস অব ইন্ডিয়ায়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..