বিশ্ব সংবাদ

বিশ্বজুড়ে ‘মিয়ানমার বয়কট’-এর ডাক

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু আজ

শেয়ার বিজ ডেস্ক : আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আজ (১০ ডিসেম্বর) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থান করছেন। শুনানিকে সামনে রেখে গতকাল ‘মিয়ানমার বয়কট’-এর ডাক দিয়েছে ১০টি দেশের ৩০টি সংগঠন। খবর: রয়টার্স। 

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বাস্তবতায় জীবন বাঁচাতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। এ নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে গত ১১ নভেম্বর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। ওই মামলার শুনানিতে অংশ নিতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সু চি এখন হেগে রয়েছেন।

সু চি যখন হেগে অবস্থান করছেন, তখন জার্মানভিত্তিক ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনস নামের প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘বয়কট মিয়ানমার ক্যাম্পেইন’ শুরু করা হয়েছে। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গণহত্যা মামলার শুনানিকে সামনে রেখে ৩০টি মানবাধিকার, শিক্ষাবিদ এবং পেশাদারদের সংগঠন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ফরসি ডট কো, রেস্টলেস বিংস, ডেস্টিনেশন জাস্টিস, রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস নেটওয়ার্ক অব কানাডা, রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ অব ইন্ডিয়া ও এশিয়া সেন্টারের মতো সংগঠনগুলো।

কর্মসূচি নিয়ে বয়কট রোহিঙ্গা ডট অর্গ তাদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ‘চলতি বছর ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসে এসব সংগঠন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মিয়ানমারকে বর্জনের আহ্বান সংবলিত প্রচারণা শুরু করেছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নৃশংসতা, গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পক্ষে প্রত্যক্ষ ও নথিভুক্ত প্রমাণ রয়েছে। সারা বিশ্ব এর নিন্দা জানালেও হতাশার কথা, এ অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করছেন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি।

ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা নাই সান লুইন বয়কট কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন স্পষ্ট করেছে যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিকে নির্মূল করে দেওয়ার একটি নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী হিসেবে আমরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অধীনে ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকা অং সান সু চির মুক্তির আন্দোলন করে এসেছি। তবে তিনি সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর শুধু খুনি সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে চলছেন। তাই আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক সব সম্পর্ক ছিন্ন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানাই।’

এদিকে চূড়ান্ত শুনানি হওয়ার আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের আপাত সুরক্ষা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে আইসিজে-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ এশিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ফর্টিফাই রাইটস।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিজে। মূলত দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নিরসনের কাজ করে থাকে ওই আদালত। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রথম কোনো দেশের জাতীয় নেতা দেশের হয়ে ব্যক্তিগতভাবে আন্তর্জাতিক আদালতের মামলার শুনানিতে অংশ নিচ্ছেন। এটা একটা রেকর্ড।

আন্তর্জাতিক আদালতের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে গতকাল সন্ধ্যায় মিত্র চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্তে বৈঠক করেন নোবেলজয়ী সু চি। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সু চির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে উভয় দেশ শক্তিশালী মিত্রতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ শুনানির আগে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আপাত ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের ১৬ সদস্যের বিচারক প্যানেলের প্রতি আহ্বান জানাবে গাম্বিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্যই সু চি নিজে এ মামলার নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..