বিশ্ববাজারে টানা ছয় সপ্তাহ তেলের দামে পতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: কভিডের নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্ক এবং তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেকের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে তেলের নিম্নগামী রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে ওমিক্রন শনান্তের খবরে একদিনেই তেলের দাম পড়ে যায় ১০ ডলার। সরবরাহ কমে যওয়ায় গত মাসে ‘রিজার্ভ’ তহবিল থেকে বাজারে তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ। এর জেরেও দাম কমতে থাকে। ফলে গত ছয় সপ্তাহ টান তেলের দাম হ্রাস পায়; যা সপ্তাহের হিসাবে ২০১৮ সালের পর টানা এতদিন তেলের দরপতনের ধারা অব্যাহত থাকতে আর দেখা যায়নি। খবর: ব্ল–মবার্গ, ইয়াহু ফাইন্যান্স।

ওমিক্রন সংক্রমণের আতঙ্কে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম কমেছে অন্তত দুই দশমিক ৮ শতাংশ। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, কভিডের নতুন এ ধরন ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি তেলের চাহিদায় আবারও ধস নামতে পারে। কারণ ইতোমধ্যে জাপান, ইসরাইলসহ কয়েকটি দেশ বিদেশিদের জন্য ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ অনেক দেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যসহ অন্তত ৩৮ দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এর বিষয়ে বিশ্বকে প্রথম সতর্ক করা দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় গত মঙ্গলবার থেকে সংক্রমণের হার অন্তত চারগুণ বেড়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার ওপেক ও ওপেক প্লাসের এক বৈঠকে আগামী জানুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে দৈনিক আরও চার লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে তেলের সরবরাহ বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম আরও কমে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে ওন্ডা করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক এড ময়া বলেন, এমনিতে স্বল্পমেয়াদি চাহিদা পরিস্থিতি খুবই নড়বড়ে, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন বিধিনিষেধ দেয়, তাহলে চলতি মাসের শেষের দিকে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ দেখা যেতে পারে।

এদিকে অয়েল প্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ (শূন্য দশমিক ২৪ ডলার) কমে ব্যারেলপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৬৬ দশমিক ২৬ ডলারে। আর অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ (শূন্য দশমিক ২১ ডলার) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৯ দশমিক ৮৮ ডলার। এছাড়া হিটিং অয়েলের দাম শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কমে হয়েছে দুই দশমিক ০৯৮ ডলার।

কভিড সংক্রমণের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকেই। সবরবাহ ঘাটতি থাকায় ২০১৮ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল ৭৫ ডলারে উঠে আসে গত জুনে। এরপর অক্টোবরে এসে তেলের দাম বৃদ্ধির পালে আবার নতুন করে হাওয়া লাগে। এতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে এসে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৪ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর নভেম্বরের শুরুতে নড়েচড়ে বসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি ওপেককে অনুরোধ করেন তেলের উৎপাদান বাড়ানোর জন্য। কিন্তু ওপেক তাতে সাড়া না দিলে রিজার্ভ থেকে জ্বালানি বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয় বাইডেন। এর যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান ও ভারতও রিজার্ভ থেকে  তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে কমতে শুরু করছে

তেলের দাম। এরপর গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে নতুন আরেকটি ধরন (ওমিক্রন) শনাক্ত হওয়ার খবর জানায়। গত সপ্তাহে ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ায় একদিন ১০ ডলার কমে যায়। এরপর নি¤œমুখী রয়েছে তেলের দাম।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ নভেম্বর দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায় সরকার।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯৯৪  জন  

সর্বশেষ..