প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিশ্ববাজারে তামা সরবরাহ বাড়বে, কমতে পারে দাম

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়া থেকে ছয় লাখ ৭৫ হাজার টন তামা রফতানির অনুমতি পেয়েছে দেশটির কোম্পানি আম্মান মিনারেল নুসা তেঙ্গারা (এএমএনটি)। বিশ্বের বৃহত্তম তামা উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও চিলির খনিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষে বিশ্বব্যাপী সৃষ্ট সরবরাহ সংকটে শিল্পপণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ পরিস্থিতে পণ্যটির রফতানি অনুমোদন বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়াবে, যা পণ্যটির দাম কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

মেডকো এনার্জি ইন্টারন্যাশনাল একটি শাখা এএমএনটি। সম্প্রতি কোম্পানিটি প্রেসিডেন্ট রেচম্যাট মাকাসু জানিয়েছেন, আমরা শিগগির রফতানি কার্যক্রম শুরু করবো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের তামা রফতানির অনুমতি দিয়েছে।

তিনি জানান, তামা ছাড়াও জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ও কোম্পানিটিকে রফতানির অনুমতি দিয়েছে।

খনি মালিকদের সঙ্গে সরকারের বিবাদ ও শ্রমিক ধর্মঘটের কারণে সম্প্রতি চিলি ও ইন্দোনেশিয়া থেকে তামা রফতানি ব্যাহত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দেয় এবং পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্রিপোর্ট-ম্যাকমোরান ইনকরপোরেশনের অধীন ফ্রিপোর্ট ইন্দোনেশিয়াকে উৎপাদন কার্যক্রম কিছুদিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর আগে ইন্দোনেশিয়ার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় বন্ধ থাকা একটি খনি থেকে নতুন করে তামা উত্তোলনের জন্য ফ্রিপোর্ট ম্যাকমোহন ও গোল্ড ইনকরপোরেশনকে অনুমতি দেয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার গ্রাসবার্গ নামের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তামার খনিটিতে প্রায় ২৮ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। এরপর খনিটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফ্রিপোর্ট-ম্যাকমোরন ইনকরপোরেশন সোমবার জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া সরকারের উচিত সেখানকার শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া। গ্রাসবার্গ খনিতে বিদ্যমান এ সংকটের কারণে সারা বিশ্বের অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান কমোডিটিজ ইকোনমিস্ট ক্যারোলিন বাইন বলেন, আমরা এখনও চীনের চাহিদা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানি না। তবে প্রবণতা বিচারে বলা যায়, সরবরাহ সংকটের কারণেই (তামার) দাম বাড়ছে।

এদিকে বিশ্বের বৃহত্তম তামার খনি চিলির এসকোনডিডা থেকেও তামার সরবরাহ কম। এক সপ্তাহ আগে বিএইচপি বিলিটন পরিচালিত এ খনিতে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হলে তামার টনপ্রতি দাম ছয় হাজার ২০৪ ডলারে পৌঁছায়। এর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার খনিশ্রমিকদের আন্দোলন যোগ হওয়ায় বাজারটিতে বর্তমানে সরবরাহ স্বল্পতা নতুন মাত্রায় গিয়ে ঠেকেছে। চলতি সপ্তাহেই এসকোনডিডা শ্রমিকদের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। এ আলোচনায় বিষয়টির সুরাহা হলে বাজার পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। এ অবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হলে গত ছয় বছরের মধ্যে তামার বাজারে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ সরবরাহ সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।