বিশ্ব বাণিজ্য

বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস নিয়ে তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও ওপেকবহির্ভূত দেশগুলো বৈঠকের তারিখ ঠিক করায় প্রভাব পড়েছে পণ্যটির দামে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় দুই শতাংশ। খবর: রয়টার্স।
গতকাল লন্ডনভিত্তিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয়েছে ৬২ ডরার ৯৫ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় এটি এক দশমিক আট শতাংশ বেশি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হয়েছে ৫৪ ডলার ৬৬ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় এক দশমিক সাত শতাংশ বেশি।
এর আগে গত সপ্তাহে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ফিন জেবিল বলেন, গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস নিয়ে আলোচনা করতে তারিখ ঠিক করায় তেলের দাম বেড়েছে।
এনার্জি ইনফর্মেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমে তিন দশমিক এক ব্যারেল কমেছে। বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করেছিল কমবে এক দশমিক এক মিলিয়ন ব্যারেল।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উৎপাদন হ্রাস বা বৃদ্ধি নিয়ে আগামী ১০-১২ জুলাই ভিয়েতনামের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবে ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্য প্রধান উৎপাদক দেশগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পড়তে থাকায় জানুয়ারি থেকে ছয় মাসের জন্য অশোধিত তেলের উৎপাদন ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক। রাশিয়াসহ ওপেকের বাইরে থাকা কয়েকটি তেল উৎপাদনকারী দেশও তাতে একমত হয়। সব মিলিয়ে তারা দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেল উৎপাদন ছাঁটাই করছে। জুনেই সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু এ বিষয়ে দেশগুলো এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। আগামী জুলাইয়ে ভিয়েতনামের বৈঠকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশগুলোর প্রতিনিধিরা।
সরবরাহ কমায় গত এপ্রিলে তেলের দর ব্যারেলে ৭৫ ডলারে উঠলেও সম্প্রতি তা ৬০ ডলারের নিচে নেমেছিল। সৌদির দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত বেশি হওয়ায় চাহিদার চেয়ে এখনও জোগান যথেষ্ট। মার্কিন-চীন শুল্কযুদ্ধে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতেই অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে চাহিদাতেও ভাটা পড়ছে। তাই তেলের দাম উঠছে না।
সম্প্রতি ভারতসহ আট দেশকে ইরানের তেল আমদানিতে দেওয়া ছাড় তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তখনই তেল রফতানিকারীদের সংগঠন ওপেককে উত্তোলন বাড়াতে আর্জি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..