প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিশ্ববাজারে ৪% বেড়েছে তেলের দাম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। গত মঙ্গলবার চার শতাংশ বাড়ে তেলের দাম। এ হিসেবে ওমিক্রনের আগের অবস্থায় ফিরেছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার। খবর: দ্য স্ট্রেইট টাইমস।

ধারণা করা হয়েছিল, নানা খাতে পড়বে ওমিক্রনের প্রভাব। ঘটেছেও তাই। ওমিক্রনের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার দুই মাসের মধ্যে গতকাল বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সর্বোচ্চ হয়।

গতকাল আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ ডলার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম তিন দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ৮২ ডলার ছুঁইছুঁই করছে। এদিন প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয়েছে ৮১ ডলার ৮৩ সেন্টে। গত নভেম্বরের পরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের জন্য এটিই সর্বোচ্চ দাম। অথচ গত সোমবার এ তেলের দাম কমে শূন্য দশমিক আট শতাংশ।

এ বিষয়ে পিকটেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ লুকা পাওলিনি বলেন, বিশ্ববাজার ভাইরাসের ওপর নয়, বরং আয়, ফেডারেল ব্যাংক ও অর্থনৈতিক ডেটার ওপর চলছে।

এর আগে গত বছর নভেম্বরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার হয়, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। ব্রেন্টের দাম বেড়েছিল ৮০ ডলার ৬৯ সেন্ট। তখন টানা সাত দিন ধরে বাড়ে তেলের দাম। বিশ্লেষকরা তখন বলেছিলেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বছর শেষে তেলের দাম আরও বাড়বে। গোল্ডম্যান স্যাকস তখন জানায়, বছর শেষে তেলের দাম ৯০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে সেই আশঙ্কা বাস্তবে দেখা যায়নি। পড়ে যায় তেলের দাম। অবশ্য ভিন্নমতও দিয়েছিলেন অনেক জ্বালানি বিশ্লেষক। তারা বলেছিলেন, ওমিক্রন আতঙ্কের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যেতে পারে।

অনেক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত গত মাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলে বড় দরপতন হয়। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় চার ডলার বা সাড়ে পাঁচ শতাংশ কমে ৬৬ ডলারে নেমে আসে। জ্বালানি তেলের এ দর ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরে দ্বিতীয় বড় দরপতন ছিল এটি।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বরে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার ২২ সেন্ট বা ১৩ শতাংশের বেশি কমে ৬৮ ডলারে নেমে এসেছিল। এরপর ওমিক্রন আতঙ্ক কিছুটা স্তিমিত হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে ৭০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। দুই সপ্তাহ ধরে ৭০ ডলার বা তার কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

বিশ্লেষকরা বলেছিলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে যাবে। এ কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এজন্য তেলের দাম কমছে।

এ অবস্থা থেকেও বেরিয়ে এলো বিশ্ববাজার। এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। মহামারির মধ্যে টানা বাড়ে তেলের দাম। কভিড পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত বছর ২৭ অক্টোবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে ৮৫ ডলার ৭০ সেন্ট হয়। এরপর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ ডলার ৫০ সেন্ট। ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার।

এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধি কমাতে নানা পদক্ষেপ নেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে। তবে বাইডেনের এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি।

২০২২ সালে গত বছরের তুলনায় ছয় লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল বেশি উৎপাদন হতে পারে। তবে এ বছর আট লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেলের চাহিদা রয়েছে। আগামী বছর এ চাহিদার সঙ্গে যোগ হবে তিন লাখ ৩০ হাজার বেশি ব্যারেল তেল।