সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শৃঙ্খলা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিন

দেশের সরকারি ও বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষসহ অনেক পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষা ও প্রশাসনিক খাতে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ফলে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষকে সার্বক্ষণিক অবস্থান বাধ্যতামূলক ও অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৬টিতে উপাচার্য নেই। এছাড়া কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়মিত উপাচার্য নেই। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। একজন উপাচার্য বিভিন্ন বিষয়ে দেশ-জাতিতে উদ্ধার করলেও নিজের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উদাসীন। তার টানা অনুপস্থিতি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। অথচ সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার শর্তে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। যোগদানের পর থেকে অনুপস্থিতির পাশাপশি কোনোদিন এক কিংবা দুই ঘণ্টা কর্মস্থলে অবস্থান করেন।

দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই ঢাকায় অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন কর্মচারীকে দিয়ে নিজের দুটি কোর্সের পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তা ই নয়, লিখিত পরীক্ষার পর ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে পরীক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষাও নিয়েছেন তিনি। একইভাবে কাকে কত নম্বর দিতে হবে তাও বলে দিয়েছেন। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা আইনে অনুপস্থিত থেকে নিজের কোর্সের পরীক্ষা গ্রহণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। কর্মচারী দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া, সিন্ডিকেট সভাকক্ষে পরীক্ষা নেওয়া কোনো অবস্থায়ই শোভন নয়।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম না মেনে নিজেরাই একজন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে মাসের পর মাস শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিড়ম্বনার শিকার হন। উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, আর্থিক বিষয়সহ অনেক ক্ষেত্রেই কাজ আটকে থাকে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সত্ত্বেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়নি, এমন দৃষ্টান্তও আছে। খোদ ইউজিসি চেয়ারম্যানই অকপটে স্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। গতকাল শেয়ার বিজে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দিয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় চলছে, সেগুলোয় শিগগিরই স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গতকাল এক অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মশৃঙ্খলা প্রতিপালনের অভাব নিয়ে কথা বলেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আমরা আশাবাদী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম যথাযথ মেনে চলবে এবং উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও নিবন্ধক, দায়িত্বশীল হবেন। অবশ্য উপাচার্য নিজে আইন না মানলে, তিনি কর্মঠ ও দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ দেবেন কি না সে প্রশ্নও উঠতে পারে।

বার্ষিক কর্মসম্পাদন করতে ইউজিসির সঙ্গে চুক্তি (এপিএ) করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। তবে এপিএ করলেই কর্ম সম্পাদন হয়ে যায় না। তাই আগের এপিএগুলোর মূল্যায়ন করতে হবে। কর্ম সম্পাদনে সার্বিক অগ্রগতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..