মত-বিশ্লেষণ

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে

দেশের কতিপয় গুণীজন ছাড়া বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ বা গবেষকদের কেউ চেনেন না, বা মনে রাখছেন না। এমনকি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরাও। কেউ তাদের মতো হতে চাচ্ছেন না। সবাই ছুটছেন বিসিএস বা সরকারি চাকরির পেছনে। ফলপ্রসূ এক ধরনের সংকটে ভুগছি আমরা, পিছিয়ে থাকছি অন্যদের থেকে।

৩০ নভেম্বর ছিল স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর জš§বার্ষিকী। কিন্তু আমরা কি জানি তিনি কে? নাম হয়তো শুনেছি অনেকেই, কিন্তু তার অবদান কি জানি? তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি পদার্থবিদ, উদ্ভিদবিদ ও জীববিজ্ঞানী এবং প্রথম দিকের একজন কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা। তিনি ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে জš§গ্রহণ করেছিলেন। তার গবেষণার ফলে উদ্ভিদবিজ্ঞান শাখা সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা হয় তার হাত ধরেই।

ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করে। এছাড়া ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ তারছাড়া একস্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানোয় সফল হন। ১৮৮৭ সালে বিজ্ঞানী হার্টজ প্রত্যক্ষভাবে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন। এ নিয়ে আরও গবেষণা করার জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন, যদিও শেষ করার আগেই তিনি মারা যান। জগদীশচন্দ্র তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সর্বপ্রথম প্রায় পাঁচ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ তৈরি করেন। এ ধরনের তরঙ্গকেই বলা হয়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাইক্রোওয়েভ। আধুনিক রাডার, টেলিভিশন ও মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মূলত এর মাধ্যমেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান-প্রদান ঘটে থাকে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের এক জরিপে এক লাখ ৬০ হাজার বিজ্ঞানী নির্বাচিত হয়েছেন, যার মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ও উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক ড. মো. আজহার ইসলাম একজন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পরে গণমাধ্যমকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকলে এই গবেষণা আরও উন্নতির দিকে নেওয়া যেত।

আল আমিন ইসলাম নাসিম

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..