সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তাব্যক্তিদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কাম্য নয়

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশে একে একে প্রায় অর্ধশত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ও শতাধিক। প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষা বিস্তার, গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি, আর্থসামাজিক উন্নতি ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উন্নত শিক্ষাদান ও গবেষণা হবে বলেই প্রত্যাশা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এতে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টিতেও বিশ্ববিদ্যায় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্যোগ সন্তোষজনক নয়। উল্টো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তাব্যক্তিরা নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যা অগ্রহণযোগ্য। এতে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে উচ্চ শিক্ষাঙ্গনও, বহির্বিশ্বে নষ্ট হচ্ছে ভাবমূর্তি।

‘ভিসিরা দুর্নীতি করলে অবস্থা কী হবে: রাষ্ট্রপতি’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, উপাচার্যের অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, উপাচার্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী। তারা নিজেরাই যদি অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন বা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কী হবে? সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা বিবেচনায় তার কথাগুলো খুবই যৌক্তিক বলে মনে করি।

উচ্চশিক্ষার নি¤œমান নিয়ে সমালোচনা চলছে দীর্ঘদিন। গবেষণা পরিস্থিতিও নাজুক। এ অবস্থার জন্য অনেকগুলো সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের তাগিদ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সান্ধ্যকোর্স ও বৈকালিক কোর্সসহ বিশেষ প্রোগ্রাম; স্বায়ত্তশাসনের অপব্যবহার, শিক্ষায় কম বরাদ্দ ও গবেষণায় তহবিল বরাদ্দ না থাকা, দলীয়করণ, ছাত্ররাজনীতি, আবাসন সংকটসহ নানা ধরনের সমস্যা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে। অযোগ্যদের নিয়োগ, শিক্ষকদের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। আর ভিসি থেকে শুরু করে কর্তাব্যক্তিদের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংকট আরও বাড়াচ্ছে। ফলে ছাত্র-শিক্ষক দূরত্বও বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে তা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় নামিয়ে আনতে পারে বৈকি।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা আইন মেনে চলতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি অভিযোগ করেছেন, একশ্রেণির শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন। সান্ধ্যকোর্স ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটান। অনীহা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট খরচের সিংহভাগই আসে জনগণের পকেট থেকে, এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। আগেও উচ্চশিক্ষা নিয়ে যৌক্তিকভাবে এ ধরনের সমালোচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে ভিসি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রত্যাশা। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..