সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয় মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর হোক

বেশকিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের অভিযোগ বেশ পুরোনো। উচ্চশিক্ষার ন্যূনতম মান রক্ষা না করেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকাল শেষ করা হয় বলেও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন এসেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বিভিন্ন পরিদর্শনেও এমন চিত্র উঠে আসার নজির রয়েছে। তবে আশার কথা হলোÑউচ্চশিক্ষার নামে সনদ বিক্রির মতো ঘটনা বন্ধে উদ্যোগী হওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিষয়টি আশা জাগানিয়া নিঃসন্দেহে। আশা করি, মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি এ বিষয়ে তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘সংসদে শিক্ষামন্ত্রী: সার্টিফিকেট বাণিজ্য বন্ধে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনিটরিং’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত সোমবার জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বিষয়ে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ বিক্রির মতো অভিযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে আছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিষয়ে মন্ত্রী যে বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন, তা রীতিমতো হতাশাজনক। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট কারিকুলাম সম্পন্ন না করেই শিক্ষার্থীদের কৃতকার্য বলে সার্টিফিকেট দিয়ে দিচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব সনদধারী শিক্ষার্থীরা স্বভাবতই অদক্ষ থেকে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতির জন্য যে ধরনের জনবল প্রয়োজন, সে ধরনের জনশক্তিতে পরিণত হতে পারছে না। ফলে শিক্ষিত বেকারের পাল্লা ভারী হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থী না পাচ্ছে কোনো কর্মমুখী শিক্ষা, না পাচ্ছে জ্ঞানমূলক শিক্ষা। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যখন কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় তখন তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা খুঁজে পান না। ফলে দেশে পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে থেকে কর্মী আনতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আউটার ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করে সনদ বিক্রির মতো কার্যক্রম চালাচ্ছে। এটি আশু বন্ধ হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং সেন্টার নয় যে, যত্রতত্র শাখা খুলে বসবে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বেশকিছু আউটার ক্যাম্পাস বন্ধ করা হয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ।

বর্তমানে বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশ (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) সময় পার করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশ সে লভ্যাংশ কাজে লাগাতে পারছে না। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে হলে অবশ্যই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে। আর সেটি করতে হলে অবশ্যই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..