সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয় সান্ধ্য কোর্সের শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত হোক

‘সমালোচনার মুখে ঢাবির সান্ধ্য কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা সবার অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। কভিডের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বন্ধ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এমবিএ (ইভিনিং) কোর্সের জন্য এ ভর্তি পরীক্ষা নিতে যাচ্ছিল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

পরীক্ষার বিষয়টি জানেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য। অথচ অতিমারির কারণে চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি-কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল। কিন্তু নীতিমালা হওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ। গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা হয়। উপাচার্যের আদেশে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে নিয়মিত স্নাতকোত্তর পাস করতে বছরে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা লাগে। অথচ সান্ধ্য কোর্স ও পেশাজীবী (প্রফেশনাল) কোর্স করতে লাগে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। সামার, উইন্টার ও স্প্রিংÑএই তিন ভাগে ৭২০ জন করে মোট ২ হাজার ১৬০ শিক্ষার্থী প্রতি বছর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এসব কোর্সে ভর্তি হন। অথচ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে এ অনুষদে প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান ১ হাজার ২৫০ জন।

শিক্ষা নয়, বাণিজ্যই সান্ধ্য কোর্সগুলোর মূল উদ্দেশ্য। একই ধরনের কোর্স আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদেও। আছে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়ও।

গত ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণহারে চালু থাকা সান্ধ্য কোর্সের কড়া সমালোচনা করেন। এরপরই সক্রিয় হয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।  বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের কাছে পাঠানো চিঠিতে সান্ধ্য কোর্স বন্ধ করাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়।

সমালোচনা না উঠলে এমবিএ (ইভিনিং) ৪৫তম ব্যাচের ভর্তি পরীক্ষা হয়তো স্থগিত হতো না। এদিকে একেবারে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি জানানোয় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়।

একদিকে সান্ধ্য কোর্স নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, আবার ভর্তিও চলছেÑএমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আমরা মনে করি, পুরো কার্যক্রমই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে সান্ধ্য ও প্রফেশনাল কোর্সগুলো। মূল বেতনের বাইরে ভালো আয় হওয়ায় এসব কোর্সে গুরুত্বের সঙ্গে ক্লাস নেন শিক্ষকরা। কিন্তু এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করতে পারেননি, এটি দুঃখজনক।

আমাদের বিশ্বাস, সান্ধ্য ও প্রফেশনাল কোর্সের শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিতকরণে স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষকরাই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..