সম্পাদকীয়

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আদর্শচ্যুতি কাম্য নয়

মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয় শিক্ষকদের। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও ভবিষ্যৎ আর নেতৃত্ব তৈরির কারখানা হিসেবে বিবেচিত। শিক্ষকদের দেখানো পথে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশের হাল ধরেন শিক্ষার্থীরা। অতীতকাল থেকেই তাই শিক্ষকদের মহান আদর্শকে সবাই শ্রদ্ধা করেন, সমীহের চোখে দেখেন। কিন্তু শিক্ষকরা যদি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে দেশের জন্য বিপদ অবশ্যম্ভাবী। অথচ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কিছু শিক্ষক একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জড়াচ্ছেন, যা উদ্বেগজনক। এতে সমগ্র শিক্ষক সমাজকে বিব্রত হতে হচ্ছে। সর্বশেষ এমন নজির দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘পদত্যাগ করলেন বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। অবশ্য তার এ পদত্যাগপত্র আরও আগেই প্রত্যাশিত ছিল। কারণ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছিলেন তিনি। তবে দেরিতে হলেও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি, যা সবার জন্যই স্বস্তির খবর।
শুধু বশেমুরবিপ্রবি নয়, ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, বেগম রোকেয়া ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়েও উপাচার্য কিংবা উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বিরুদ্ধে জোরালো আন্দোলন চলছে। খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি, গালাগাল এমনকি মা-বাবাকে ডেকে অপমান করার অভিযোগ ওঠে উপাচার্য নাসিরের বিরুদ্ধে। অথচ নবীন বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি হওয়ার সুবাদে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে তার দারুণ ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা অগ্রহণযোগ্য।
সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটলের মতো শিক্ষকরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ শিখরে রেখে গেছেন। আমাদের দেশেও জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক, শামসুজ্জোহা, গোবিন্দ চন্দ্র দেব, আর সি মজুমদার, মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, সরদার ফজলুল করিম, অধ্যাপক সালাউদ্দিন আহমেদ, আবুল কাসেম ফজলুল হক, অধ্যাপক অজয় রায়, আবদুল মমিন চৌধুরী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মতো শিক্ষকরা এ পেশাকে মহিমান্বিত করেছেন। তাদের পথ ধরেই আজকের শিক্ষকরা আদর্শের বার্তা বহন করবেন, সেটা প্রত্যাশিত। কিন্তু তাদের এভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ার কারণ খুঁজে বের করে তার সমাধান করতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনা ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে মেধাহীন, অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছেন। এর থেকে বেরিয়ে এসে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি উপাচার্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মেধা, যোগ্যতা, বিবেকসম্পন্ন এবং গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া জরুরি।

সর্বশেষ..