প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: চলতি অর্থবছরে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে ২.৭%

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চলতি অর্থবছর বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুই দশমিক সাত শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ বিদায়ী বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি বেশি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। গত বছর বিশ্বে দুই দশমিক তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদীয়মান বাজার এই প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে কাজ করবে। যদিও সংস্থাটি মনে করছে, চলতি অর্থবছর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধীরগতি থাকবে ও বিনিয়োগ কমবে। পাশাপাশি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের সরে যাওয়ার বিষয়টি (ব্রেক্সিট) ও নীতি অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিশ্বঅর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ২০১৭  (গ্লোবাল ইকোনমিক

প্রসপেকটাস) প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, বিশ্বঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে হতাশাজনক একটি বছর পার করার পর চলতি বছর এক দশমিক আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মশক্তি বাড়িয়ে চলতি বছর প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব। চরম দারিদ্র্য কমাতে টেকসই ও সমৃদ্ধ প্রবৃদ্ধি খুবই দরকার।’

প্রতিবেদনমতে, চলতি বছর উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদীয়মান বাজারে প্রবৃদ্ধি হবে চার দশমিক দুই শতাংশ। বিদায়ী বছরে এ প্রবৃদ্ধি ছিল তিন দশমিক চার শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রবৃদ্ধিতে এর অবদানই হবে সবচেয়ে বড়।

তবে উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদীয়মান বাজারে সাম্প্রতিক দুর্বল বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্লেষকরা। ২০১০ সাল থেকে গড়ে প্রতিবছর ১০ শতাংশ করে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০১৫ সালে এ প্রবৃদ্ধি তিন দশমিক চার শতাংশে নেমে আসে। বিদায়ী বছরও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমেছে দশমিক পাঁচ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ পল রমার বলেন, ‘বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে বিশ্বের অবকাঠামো খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে।’ আর এক্ষেত্রে সরকারকে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, নতুন রাস্তা ছাড়া বিনিয়োগকারীরা নতুন ভবন নির্মাণে প্রণোদনা পান না।

উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদীয়মান বাজারে পণ্য রফতানি চলতি বছর দুই দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিদায়ী বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল দশমিক তিন শতাংশ।

উন্নত অর্থনীতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে দুই দশমিক দুই শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দেশটি ২০১৬ সালে ম্যানুফ্যাকচারিং ও বিনিয়োগের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠবে বলেও প্রত্যাশা করা হয়।

প্রতিবেদনমতে, সার্বিক দিক দিয়ে চলতি অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে সাত দশমিক এক শতাংশ। ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক দুই শতাংশ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে দুই দশমিক চার শতাংশ। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ২০১৭ সালে এক দশমিক দুই শতাংশ হারে বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় প্রবৃদ্ধি সাত দশমিক এক শতাংশ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।