প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বিশ্বব্যাংকের প্রক্ষেপণ: সাত শতাংশের নিচেই থাকবে প্রবৃদ্ধি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি সাত দশমিক দুই শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। আর অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে দাবি করা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি সাড়ে সাত শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে সরকারের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ছয় দশমিক আট শতাংশ।

গত মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্ট ২০১৭তে (বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা) এ কথা জানানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, আগামী অর্থবছর প্রবৃদ্ধির হার হবে ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশ। অর্থবছরটিতে সরকারের প্রক্ষেপণ সাত দশমিক চার শতাংশ। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ছয় দশমিক সাত শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছে সংস্থাটি। ওই অর্থবছরে সরকারের প্রাক্কলন সাত দশমিক ছয় শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে সাত শতাংশে দাঁড়াবে। অন্যদিকে সরকার প্রক্ষেপণ দিয়েছে অর্থবছরটিতে প্রবৃদ্ধি হবে আট শতাংশ।

সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কম হওয়ার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে ভোগ কমবে। একই সঙ্গে কমবে বিনিয়োগ। ফলে পূর্বপ্রাক্কলন অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে না। সংস্থাটি মনে করে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কম হওয়ায় প্রবাসী আয় ও রফতানি আয় কমলেও তা ভারসাম্য তৈরি করবে। তবে সংস্থাটির মতে, দেশের অর্থনীতির জন্য অভ্যন্তরীণ ঝুঁকিগুলো হলো, রাজস্ব খাতে ভারসাম্যহীনতা এবং আর্থিক ও করপোরেট ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা কমে যাওয়া। সরকারি খাতে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করার কারণে ঋণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ব্যাংকিং খাতের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে সরকার মনে করে, বিশ্বব্যাংকের ধারণা অনুমাননির্ভর। কারণ তাদের কাছে দেশের অর্থনীতির সার্বিক তথ্য-উপাত্ত নেই। তাই সংস্থাটি অনেকটা তত্ত্বনির্ভর প্রাক্কলন করে থাকে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম শেয়ার বিজকে বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা সব সময়ই একটু রক্ষণশীল প্রক্ষেপণ করে। গত অর্থবছরও তারা এমন রক্ষণশীল মন্তব্য করেছিল। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তারাও স্বীকার করেছে যে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর সাত দশমিক এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সুতরাং এ বিষয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণের চেয়ে বেশি হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হবে তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে থাকবে ভুটান। ২০১৭ সালে (ক্যালেন্ডার ইয়ার) দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে ভারত, দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে সাত শতাংশ। সার্বিক দিক দিয়ে চলতি অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে সাত দশমিক এক শতাংশ। ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া বিশ্বঅর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৭ সালে দুই দশমিক সাত শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অর্থাৎ বিদায়ী বছরের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বিদায়ী বছরে বিশ্বে দুই দশমিক তিন শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদীয়মান বাজার এ প্রবৃদ্ধি বাড়ার পেছনে কাজ করবে।