সম্পাদকীয়

বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে উৎসাহিত করুন

পর্যটনের যেসব বড় খাত রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম চিকিৎসা পর্যটন বা মেডিকেল ট্যুরিজম। উন্নত চিকিৎসাপ্রাপ্তির আশায় এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে যাতায়াত করেন। এ প্রক্রিয়ায় গমন করা দেশে অবস্থান ও সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, যা ওইসব দেশের জিডিপিতে অবদান রাখে। কিন্তু নিজ দেশে যদি বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উপযুক্ত সেবা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের প্রবণতা কমবে। ফলে দেশের অর্থ দেশেই থাকবে। এ বিষয়টি নিশ্চিতে দেশে বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ উৎসাহিত করা উচিত।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘বিশ্বমানের হাসপাতালের অভাব বোধ করছেন উচ্চবিত্তরা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, করোনা মহামারির কারণে সামর্থ্যবানরা দেশের বাইরে চিকিৎসা গ্রহণ করতে যেতে পারছেন না। আবার দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপরও ভরসা করতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে দেশে ভালো মানের হাসপাতালের অভাব অনুভব করছেন তারা।

সাধারণত সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের জনসংখ্যার অনুপাতে সরকারি হাসপাতালের সেবাদানের সক্ষমতা অপ্রতুল। ফলে যেসব রোগীর বিশেষায়িত সেবার প্রয়োজন হয়, সরকারি হাসপাতালে তা অনেক ক্ষেত্রে নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। আর সামর্থ্যবানরা কিছুটা বাড়তি সেবা প্রত্যাশা করেন এবং সেই সেবার বিনিময়ে তারা অর্থ পরিশোধে তারা সদা প্রস্তুতও থাকেন। কিন্তু তারা যে মানের সেবা প্রত্যাশা করেন, দেশে সে মানের হাসপাতাল না থাকায় এসব উচ্চবিত্তের মানুষের মধ্যে বিদেশমুখী অনেক বেশি। এমনকি সরকারের মন্ত্রী-আমলারাও দেশের চিকিৎসার ওপর আস্থা রাখতে পারেন না। এই মুহূর্তে অর্থমন্ত্রী লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়। আর তার এ বিদেশ যাত্রার প্রধান উদ্দেশ্য চিকিৎসা গ্রহণ। কাজেই বোঝা যাচ্ছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরাও দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সন্তুষ্ট নন।

এমন বাস্তবতায় দেশে বেসরকারি উদ্যোগে বিশ্বমানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তাতে একদিকে যেমন দেশের নাগরিকদের ভালোমানের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকেও অনেকে চিকিৎসা নিতে আসবেন। এতে চিকিৎসাকেন্দ্রিক পর্যটন বিকশিত হবে। উচ্চবিত্তদের বাইরেও মধ্য ও নি¤œমধ্যবিত্তদের অনেকে ভারতে যান চিকিৎসা নিতে। ভারত ভ্রমণকারী বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশিরা। আর ভ্রমণকারীদের অর্ধেকই যান চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাজে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে ভারতের বিদেশি অর্থপ্রবাহের চতুর্থ বৃহত্তম উৎস। অথচ দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানো গেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব হতো। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন উপযুক্ত মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..