বিশ্ব বাণিজ্য

বিশ্বে হালাল খাদ্যবাজার বাড়ছে

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী ‘হালাল’ খাদ্য ও পানীয়র চাহিদা বাড়ছে। অনেক ব্যবসায়ী নতুন করে এ ব্যবসায় প্রবেশ করছেন। তাই আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হবে বলে দুবাই ইসলামিক ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের ‘স্টেট অব গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খবর আরব নিউজ।

প্রতিবেদন মতে, ২০১৬ সালে বিশ্বে হালাল খাতের বাজার ছিল এক দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ডলারের। ২০২২ সাল নাগাদ এ বাজার বেড়ে এক দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

হালাল খাদ্য ইসলামি অর্থনীতির সবচেয়ে বৃহত্তম ও বৈচিত্র্যময় খাত। হালাল ও হারামের ব্যাপারটি ইসলামে বাধ্যতামূলক হওয়ায় মুসলমানরা ধর্মীয় রীতি মোতাবেক বৈধ বা হালাল পণ্যই কেবল ব্যবহার করেন। ফলে আন্তর্জাতিক বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যাপক চাহিদা ও জনপ্রিয়তাসম্পন্ন যেসব পণ্য হালাল নাকি হারাম তা বোঝা যায় না, মুসলিম দেশগুলোতে সে পণ্যগুলোর কোনো মূল্যই নেই। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে মুসলমানদের আনুকূল্য পেতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো হালাল পণ্য উৎপাদনের দিকে ব্যাপকভাবে মনোযোগী হয়েছে। যেসব পণ্য শরিয়াহ্সম্মত উপায়ে তৈরি হচ্ছে, সেগুলোকে হালাল পণ্যের সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। ফলে হালাল অর্থনীতির পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে দিন দিন। এভাবেই অর্থনীতির একটি অন্যতম টেকসই খাত হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে হালাল খাত। এ বাজারে নতুন নতুন পণ্য আসছে। এর মধ্যে ক্যান্ডি, রেডিমেড মিলস, স্ন্যাকস ও শিশুদের খাদ্য হালাল খাতের আওতায় আসছে।

মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় ইউরোপ-আমেরিকায় ব্যাপকভাবে বাড়ছে হালাল খাবারের চাহিদা। ব্রিটেনে প্রতিবছর ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে হালাল খাবারের চাহিদা। পুরো পৃথিবীতে হালাল খাবারের রয়েছে কয়েক ট্রিলিয়ন পাউন্ডের বাজার। ফলে বিশ্বের ব্যবসায়ীদের কাছে ‘হালাল’ এক নতুন সম্ভাবনার নাম। কোরিয়ায় মুসলিম নাগরিক, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা শিক্ষার্থী এবং মুসলিম পর্যটকদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় দেশটির স্থানীয় বাজারে বাড়ছে হালাল খাবারের চাহিদা। সিউলে হানিয়াং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ক্যাম্পাসে স্থাপন করেছে হালাল ফুড ক্যাফেটেরিয়া। দক্ষিণ চুংচেওং প্রদেশের সানমুন বিশ্ববিদ্যালয়েও এরই মধ্যে চালু হয়েছে হালাল ফুড ক্যাফে। ক্রমবর্ধমান হালাল খাবারের চাহিদা মিটিয়ে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী সফলতা অর্জন করতে ফুড আইটেম তৈরির প্রতিষ্ঠানগুলো হালাল খাবার তৈরি ও হালাল সার্টিফিকেশনের দ্বারস্থ হচ্ছে। কোনো খাবার হালাল বা হারাম সার্টিফিকেশন করার জন্য ব্রিটেনে রয়েছে ‘হালাল ফুড অথোরিটি’। সার্টিফিকেশন শুধু পশুপাখি জবাইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিতে প্রস্তুত করা খাবার প্যাকেজিং, হালাল উপাদান, তেল, চর্বিসহ বিষয়ের দিকে লক্ষ রেখে সার্টিফিকেশন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও পানীয়তে খরচ বৃদ্ধির তুলনায় এ খাতে মুসলিমদের খরচ দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। এতে হালাল খাদ্যের চাহিদা বাড়ায় এ খাতে বিনিয়োগও বাড়ছে। পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন হালাল ফুড ব্র্যান্ড।

মুসলিমদের ব্যয়ের তালিকায় প্রথমেই আছে খাদ্য ও পানীয়। এর পরে ব্যয় করে বস্ত্র ও পোশাক খাতে বছরে ২৫৪ বিলিয়ন ডলার। বিনোদনে ব্যয় করে ১৯৮ বিলিয়ন ডলার, ভ্রমণে ব্যয় করে ১৬৯ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল ও প্রসাধনীতে ব্যয় করে যথাক্রমে ৮৩ বিলিয়ন ডলার ও ৫৭ দশমিক চার বিলিয়ন ডলার। হালাল খাদ্যের চাহিদা বুঝতে পেরে বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত বহুজাহিক প্রতিষ্ঠানগুলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাজারে তাদের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হালাল খাদ্যের পাশাপাশি হালাল পর্যটন খাতও বাড়ছে। এ সুযোগে হোটেল, রিসোর্ট, ডাইনিং সুবিধা ও উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো হালাল সার্ভিস বাড়াচ্ছে।

আরব উপসাগরীয় অঞ্চলে হালাল হোটেল চেইন দ্রুত বাড়ছে এবং হোটেলগুলো পরিবার ও বন্ধু নিয়ে থাকার জন্য আকৃষ্ট করতে উন্নয়ন চালাচ্ছে।

 

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..