বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে অগ্রগতি ধরে রাখতে ব্যবস্থা নিন

‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা আমাদের আশাবাদী করে তোলে। গত বৃহস্পতিবার গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই), ২০২১ প্রকাশ করেছে কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই), যা আমাদের কাছে ‘বিশ্ব ক্ষুধা সূচক’ নামেও পরিচিত। ওই সূচকে ১১৬টি দেশের মধ্যে আমাদের অবস্থান ৭৬তম। সূচকে মোট ১০০ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ১। সূচকে প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

গত বছরের সূচকে ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫তম। ২০১৯ সালে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৮তম এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬তম।

জিএইচআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ জিএইচআই স্কোরে দারুণ অগ্রগতি করছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের স্কোর ‘গুরুতর’ পর্যায় হিসেবে বিবেচিত ২৮ দশমিক ৬ পয়েন্টে ছিল। সেখান থেকে ২০২১ সালে এ স্কোর সহনীয় পর্যায় হিসেবে বিবেচিত ১৯ দশমিক ১ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অর্থাৎ গত ৯ বছরে ক্ষুধা নিবারণে বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ে অনেকখানি অগ্রগতি হয়েছে। এবারের সূচকে প্রাপ্ত স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশে ক্ষুধার মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক নির্ধারণে মাপকাঠি হলো অপুষ্টির হার, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে উচ্চতার তুলনায় কম ওজনের শিশুর হার, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশুর হার এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার। এসব বিবেচনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে আমাদের এগিয়ে থাকা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। তবে উন্নতি সর্বত্র দৃশ্যমান নয় এবং ক্ষুধা সূচকে অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষ খুব একটা পাচ্ছে না বলেই অনেকের ধারণা।

স্বীকার করতে হবে, কভিডের প্রভাবে দরিদ্রতা নেমে আসায় সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। বেশিরভাগ মানুষই কভিডের প্রভাবের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর কোনো পথ বের করতে পারেনি। বড় বিপাকে আছে তারা। এখন আমাদের দায়িত্ব হবে অগ্রগতি ধরে রাখতে হবে।

কভিডকালে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে। স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর কভিড মহামারির প্রভাবে অরক্ষিত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ও অপুষ্টিজনিত অবস্থার উন্নতিতে আমাদের কাজ করতে হবে। পুষ্টি স্বল্পতার জন্য চিহ্নিত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্থিক সামর্থ্যরে অভাবে পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহে অপারগ প্রান্তিক মানুষকে সহায়তা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, গত কয়েক বছরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় কিছুটা উন্নতি হলেও তা আন্তর্জাতিক মান থেকে অনেক দূরে। খাদ্যের সঙ্গে পুষ্টির নিশ্চয়তা এবং মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, সে লক্ষ্যে বাস্তবানুগ কর্মসূচি নিতে হবে।  ন্যূনতম খাদ্য পেলে ক্ষুধা নিবারণ হয়। কিন্তু জনগণকে কর্মক্ষম রাখতে পুষ্টি স্বল্পতার জন্য দায়ী সমস্যাগুলো সমাধানেও তৎপর হতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯২  জন  

সর্বশেষ..