বিশ্ব সংবাদ

বিশ্ব পুঁজিবাজারে ফের পতন

করোনা ছড়িয়েছে ৩৯ দেশে, মৃত্যু ২৭৬৩

শেয়ার বিজ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এখন পর্যন্ত ৩৯ দেশে ছড়িয়েছে এ ভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৮১ হাজার। এতে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৭৬৩ জনের।  ভাইরাসের প্রভাবে আবারও ধস নেমেছে বিশ্ব পুঁজিবাজারে। গতকাল বুধবার এশিয়ার শেয়ারসূচকগুলো ছিল নিম্নমুখী। ইউরোপের পুঁজিবাজারেও লেনদেন শুরু হয়েছে পতনের ধারায়। আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও ছিল একই প্রবণতা। খবর: রয়টার্স। 

গতকাল এশিয়ার বাজারের মধ্যে চীনের সাংহাই সূচক কমেছে প্রায় এক শতাংশ। এছাড়া জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে দশমিক ৭৯ শতাং, হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং ভারতের সেনসেক্স সূচক কমেছে এক শতাংশ। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউরোপে বাজারেও সব সূচকগুলোই নি¤œমুখী ছিল। এর মধ্যে লন্ডনের এফটিএসই সূচক কমেছে দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং জার্মানির ডিএএক্স সূচক কমেছে এক দশমিক ৬৫ শতাংশ। ফ্রান্সের সিএসই সূচকও কমেছে এক শতাংশের বেশি।

সবেচেয়ে বেশি পড়েছে মার্কিন পুঁজিবাজার। এর মধ্যে ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ কমেছে তিন শতাংশের বেশি। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক তিন দশমিক এবং নাসডাক সূচক কমেছে দুই দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এর আগে গত সোমবারও বড় ধস দেখা গেছে বিশ্বের বড় পুঁজিবাজারগুলোতে। এদিকে বিশ্ববাজারে দ্রুত বাড়ছে স্বর্ণের দাম। বিশ্ববাজারে চাহিদা নিয়ে উদ্বেগের কারণে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে তিন শতাংশ। লন্ডনের বুলিয়ান মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৬৮৯ দশমিক ৩১ মার্কিন ডলারÑ২০১৩ সালের পর এতটা দাম বাড়েনি মূল্যবান এ ধাতুটির। বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা মুদ্রার বদলে স্বর্ণকে বেছে নেওয়ায় এ অবস্থা। সব মিলিয়ে আশঙ্কা করা হচ্ছে, নতুন এ করোনাভাইরাস বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে লাইনচ্যুত করবে।

চীনের পর করোনাভাইরাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা এখন দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ১৪৬ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১১ জন। সেখানে ভাইরাস সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় এর প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারেও। গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার কসপির সূচক কমে গেছে অন্তত এক দশমিক পাঁচ শতাংশ।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার আরও পাঁচ দেশে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গেছে ৮১ হাজারের কাছাকাছি। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস ইতোমধ্যে মৃত্যু ঘটিয়েছে দুই হাজার ৭৬৩ জনের, যাদের মধ্যে দুই হাজার ৭১৫ জনই মারা গেছেন চীনে। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে অন্যান্য দেশেও চীনের মতোই মৃত্যুহার দেখতে হবে বলে মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।

চীনের পর এশিয়ায় এ ভাইরাসের প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে এক হাজার ১০০-এর বেশি। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে সেনা সদস্যদের মধ্যে। এদিকে ইউরোপে ইতালি হয়ে উঠেছে নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর কেন্দ্র। সেখানে আক্রান্ত হয়েছে সোয়া ৩০০ মানুষ।

ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া ও ক্রোশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে প্রথমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। এদের সবাই আক্রান্ত হয়েছে ইতালি থেকে। গত কয়েক দিনে এ ভাইরাস যে গতিতে ছড়িয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রেও এ রোগের ব্যাপক বিস্তার অবশ্যম্ভাবী বলেই মনে করছেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা।

সার্স ও মার্স পরিবারের সদস্য নতুন এ করোনাভাইরাসের নাম দেওয়া হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। আর এর সংক্রমণে ফ্লুর মতো উপসর্গ নিয়ে যে রোগ হচ্ছে, তাকে বলা হচ্ছে কোভিড-১৯। মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস মানুষের দেহে এসেছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। এ রোগের কোনো প্রতিষেধকও মানুষের জানা নেই। 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..