মত-বিশ্লেষণ

বিশ্ব বাণিজ্যে সুয়েজ খালের গুরুত্ব ও ভূ-রাজনীতি

মো. জিল্লুর রহমান: সম্প্রতি সুয়েজ খালে আটকা পড়েছিল এমভি এভারগ্রিন কোম্পানির পণ্যবাহী বড় আকারের জাহাজ ‘এভার গিভেন’। ৪০০ মিটার লম্বা ও ৫৯ মিটার  প্রশস্ত, দুই লাখ টন ওজনের ২০ হাজার কনটেইনার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজটি সুয়েজ খালে চলার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আড়াআড়িভাবে আটকে যায়। জাহাজটি আড়াআড়ি আটকে যাওয়ায় খালে সূষ্টি হয়েছিল পণ্যবাহী জাহাজের বিশাল জট। ১২০ মাইল (১৯৩ কিমি) দীর্ঘ সুয়েজ খালকে বিশ্ব বাণিজ্যের ধমনি বলা হয়ে থাকে। এই খাল দিয়ে মোট বিশ্ববাণিজ্যের ১২ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে সুয়েজ খাল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৫০টির বেশি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রধান রুট হলো এই সংকীর্ণ জলপথ।

কৃত্রিম এ সুয়েজ খাল মিসরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। বিভিন্ন পরিসংখ্যান মতে, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে হয়ে থাকে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত জলপথ হলো ১২০ মাইল দৈর্ঘ্য এই সুয়েজ খাল। সুয়েজ খাল না থাকলে ইউরোপ থেকে এশিয়ায় জলপথে পণ্য পরিবহন করতে হলে সম্পূর্ণ আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে আসতে হতো, যার দূরত্ব ৪ হাজার ৩০০ মাইল (৭ হাজার কিমি)।

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ, ১০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত তৈল, ৮ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এ সুয়েজ খাল দিয়ে পরিবহন করা হয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মুডির তথ্য মতে, কভিড মহামারির আগে মিসরের মোট জিডিপির ২ শতাংশ সুয়েজ খালের মাধ্যমে অর্জিত হয় এবং সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের এক তথ্য মতে, ২০২০ সালে ৫৬১ কোটি ডলার এবং ২০১৯ সালে ৫৮০ কোটি ডলার সুয়েজ খালের মাধ্যমে আয় করে। ২০১৯ সালে এই খাল দিয়ে ১৯ হাজার জাহাজে ১২০ কোটি টন পণ্য পরিবহন করা হয়, যা ওই বছর সমুদ্রপথে বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় আট ভাগের এক ভাগ। শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, দক্ষিণ এশিয়া ও চীনের বহু উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যবাহী জাহাজ এই খাল দিয়ে ইউরোপে পাঠায়। আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলবাহী জাহাজ ইউরোপে পাঠাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধ বা শান্তি যে কোনো সময় যে কোনো দেশের জাহাজ সুয়েজ খাল ব্যবহার করতে পারবে।

১৮৬৯ সালে আধুনিক সুয়েজ খাল খননের পর খুলে দেয়া হয়। ১৮৬৯ সালের ১৭ নভেম্বর এ খালের উদ্বোধন হয়। এ খাল ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যের এক নতুন সম্ভাবনার দোয়ার খুলে যায়। আফ্রিকা ও এশিয়ায় বিস্তীর্ণ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে এই খালের গুরুত্ব ইউরোপীয়দের কাছে ছিল খুব বেশি। তবুও খাল খননের আগে যে সংখ্যক জাহাজ চলাচল করবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, প্রথম দুই বছর সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে খালের মালিক মিসরের শাসক ইসমাইল পাশা, ফ্রান্স ও অন্য আর্থিক সংকটে পড়ে যায়। ফলে ১৮৭৫ সালে খালের শেয়ার যুক্তরাজ্যের কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয় তারা। তারপরও খালের বেশিরভাগ মালিকানা থেকে যায় ফ্রান্সেরই হাতে।

১৮৮২ সালে অ্যাংলো-মিসরীয় যুদ্ধ শুরু হয় এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধিভুক্ত হয় মিসর। বিশাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণিজ্য ও সামরিক স্বার্থে এই খালের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। ফলে ১৯২২ সালে মিসর স্বাধীন হয়ে গেলেও সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ ছাড়েনি ব্রিটেন। ১৯৩৬ সালে ব্রিটেন ও মিসর অ্যাংলো-মিসরীয় চুক্তি নামে এক চুক্তিতে  সই করে। এই চুক্তিতে সুয়েজ খাল নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ সৈন্যরা ওই অঞ্চলে থাকতে পারে। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের সৈন্যরা সুয়েজ খাল নিয়ন্ত্রণ করে। তবে আধুনিক স্বাধীন মিসরের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট জামাল আবদুল নাসের ১৯৫৪ সালে ক্ষমতায় এসেই সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার উদ্যোগ নেন এবং ১৯৫৬ সালের জুলাই মাসে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করেন জামাল আবদুল নাসের। সেসময় যুক্তরাজ্য ও মিসরের সম্পর্ক অবনতি হয় এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব পড়ে।

শীতল যুদ্ধের সময়ের ওই ঘটনায় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থন পায় মিসর। সোভিয়েত অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির সমর্থনে সুয়েজ খাল অঞ্চল থেকে ব্রিটিশ সেনাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেন জামাল আবদুল নাসের। এতে ব্রিটিশ ও ফ্রান্স মিসরের ওপর চটে যায়। ১৯৫৬ সালেই যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-ইসরাইলের সামরিক জোট মিসর আক্রমণ করে এবং সুয়েজ খালের দখল নেয়। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন এ ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং মিসর থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে ইউরোপে হামলার হুমকি দেয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মিসর থেকে সেনা প্রত্যাহার না করলে তিন দেশের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়। এমন পরিস্থিতিতে কানাডার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেস্টার বি. পিয়ারসন গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে সংঘাত এড়িয়ে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে শান্তি রক্ষা বাহিনী তৈরি ও সেখানে মোতায়েনের প্রস্তাব করেন। ১৯৫৬ সালের ৪ নভেম্বর জাতিসংঘ পিয়ারসনের প্রস্তাব গ্রহণ করে ও শান্তি রক্ষা বাহিনী নামক ধারণা অনুমোদন করে। ওই ঘটনা থেকেই জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা বাহিনী গঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য খালটি ফের খুলে দেয়া হয়। বর্তমানে সুয়েজ খালটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে মিসরের সুয়েজ ক্যানেল অথরিটি।

সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আটকে পড়া জাহাজটিকে ভাসানোর খরচ এবং ছয় দিন ধরে খালটি বন্ধ থাকার জন্য ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার বা তার বেশি হতে পারে। জাপানি জাহাজমালিকের কাছ থেকে এই ক্ষতি আদায় করা হবে কি না, তা অবশ্য প্রকাশ করেননি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু টাকার এই লোকসানের চেয়ে অন্য আরেকটি বিষয় এখন বিশ্ব গণমাধ্যমের আলোচিত বিষয়। আর সেটি হলো, দুর্ঘটনার পর নতুন করে সুয়েজ খালের বিকল্প খাল নিয়ে আলোচনা, যদিও তা নতুন কিছু নয়। ব্যাপারটা হলো, সুয়েজ খাল যেমন মিসরের আয়ের বড় একটি পথ, তেমনি এই খাল নিয়ে মিসরের বিপদও কম নয়। আধুনিক ইতিহাসে মিসরের ওপর যত যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, তার সব কটি সুয়েজ খালের দখল নিয়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ইসরায়েল। সুয়েজ খালের ওপর তাদের শ্যন দৃষ্টি অনেক আগে থেকেই। আর মিসরের কাছে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বছরে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার নগদ আয়, যা তার আয়ের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস। ফলে এই আয় বৃদ্ধিতে মিসর নানা রকম প্রকল্প হাতে নিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলও বসে নেই।

ইসরাইল সময় সময় সুয়েজ খালের বিকল্প খাল খননের কথা বলেছে। মিসর-ইসরাইল সীমান্ত দিয়ে বিকল্প যে খাল কাটার পরিকল্পনা তার আছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের ওপর মিসরের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ খর্ব করা। বিশ্লেষকদের মতো হচ্ছে, সুয়েজের বিকল্প যে খাল ইসরাইল চায়, তার পেছনে অর্থনৈতিক বিবেচনার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও স্বার্থ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস ইনসাইডার ১৯৬৩ সালের একটি গোপন সরকারি নথি প্রকাশ করে যেখানে সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে ইসরাইলের ভেতর দিয়ে একটি খাল তৈরির পরিকল্পনার কথা ছিল। আমেরিকার বাণিজ্য দপ্তরের গোপন সেই নথি ১৯৯৬ সালে আংশিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ওই গোপন পরিকল্পনায় ১৬০ মাইল লম্বা একটি খাল খননের জন্য ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমির তলায় ৫২০টি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ করার কথা বলা হয়েছিল। এছাড়া সুয়েজ খালে দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল এবং মিসরের সীমান্ত দিয়ে নতুন একটি খাল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে জাতিসংঘের বাণিজ্যিক-রুট সম্পর্কিত কমিটিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে। কয়েক বছর আগে জাতিসংঘ টানেল তৈরিতে বিশেষজ্ঞ একটি কোম্পানিকে দিয়ে সুয়েজের বিকল্প একটি খালের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিল, যেখানে ওই কোম্পানি বলেছিল যে পাঁচ বছরে এমন একটি কৃত্রিম খাল তৈরি করা সম্ভব।

সুয়েজ খালের নিয়ন্ত্রণ এবং তা সম্ভব না হলে বিকল্প একটি জলপথ তৈরির পরিকল্পনা ইসরায়েল বহুদিন ধরেই করছে। আর তাতে পূর্ণ সমর্থন রয়েছে আমেরিকা এবং পশ্চিমা অনেক দেশের। খাল তৈরির বিকল্প হিসাবে ইসরাইল সরকার ২০১২ সালে লোহিত সাগরে এইলাট বন্দর থেকে ভূমধ্যসাগরে হাইফা বন্দর পর্যন্ত একটি রেললাইন প্রকল্প অনুমোদন করেছিল। পরিকল্পনা ছিল, এশিয়া থেকে জাহাজ এসে তাদের পণ্য এইলাটে খালাস করবে, তারপর পণ্য ট্রেনে করে হাইফায় নিয়ে ইউরোপগামী জাহাজে তোলা হবে। কিন্তু জাহাজ ব্যবসায়ীরা দুইবার পণ্য ওঠানামার ঝামেলায় রাজি হবে কি না এবং সেই সঙ্গে এইলাট বন্দর বাড়তি কর্মকাণ্ডের চাপ সহ্য করতে পারবে কি না, সেই সন্দেহ থেকে ওই পরিকল্পনা চাপা পড়ে যায়। লোহিত সাগরে ইসরাইলের বন্দর এইলাট। সুয়েজ খালের বিকল্প পথ হিসেবে এই বন্দর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত একটি রেলপথের পরিকল্পনা রয়েছে ইসরাইলের। লোহিত সাগরে ইসরাইলি বন্দর এইলাটÑসুয়েজ খালের বিকল্প পথ হিসেবে এই বন্দর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত একটি রেলপথের পরিকল্পনা রয়েছে ইসরাইলের।

তাছাড়া রাশিয়াও সুয়েজ খালের বিকল্প হিসেবে আর্কটিক সাগরের মধ্য দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের বাণিজ্য পথ তৈরির পরিকল্পনা করছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে মিসরের সুয়েজ খালের বদলে একটি বিকল্প রুট ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির চবাহার বন্দরভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল নর্থ-সাউথ করিডোর বা আইএনএসটিসি রুটটি ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, এশিয়া থেকে ইউরোপে পণ্য পরিবহনের জন্য সুয়েজ খালের তুলনায় এই রুটটির ব্যবহারে ঝুঁকি অনেক কম এবং অনেক বেশি লাভজনক।

এখন মিসরের যে সরকার, তারা আমেরিকার অনুগত। কিন্তু এই আনুগত্য কত দিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে সুয়েজ খালকে মিসর কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই গেছে। সুতরাং বিকল্প একটি খাল এবং এই জলপথের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া হবে মিসরের জন্য একটি বিপর্যয়। মধ্যপ্রাচ্যে মিসরের প্রভাব এবং গুরুত্ব দারুণভাবে মার খাবে। এ কারণেই গত সপ্তাহের সংকট দ্রুত নিরসনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল মিসর। একাধিক দেশ থেকে রাতারাতি বিশেষজ্ঞ উড়িয়ে আনা হয়েছিল। সারাক্ষণই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে তারা জানিয়েছে এবং দেখিয়েছে যে কতটা গুরুত্ব দিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তাই বিশ্লেষকরা মনে করেন, মিসরের কাছে সুয়েজ খালের অর্থনৈতিক গুরুত্বই একমাত্র বিবেচ্য নয়। আঞ্চলিক ইস্যুতে প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে যতটুকু অস্ত্র মিসরের তুনে আছে, সুয়েজ খাল তার অন্যতম। বলা যায়, মিসরের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে এই খাল। আমেরিকা যেসব কারণে মিসরকে গুরুত্ব দেয়, সেটির পেছনেও রয়েছে সুয়েজ খাল। সুতরাং বিকল্প একটি খাল এবং এই জলপথের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়া হবে মিসরের জন্য একটি বিপর্যয়। মধ্যপ্রাচ্যে মিসরের প্রভাব এবং গুরুত্ব দারুণভাবে মার খাবে। এজন্য মিসর কালবিলম্ব না করে সাম্প্রতিক জাহাজ জটের সমস্যা সমাধা করেছে।

ব্যাংকার ও মুক্ত লেখক

[email protected]

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..