বিশ্ব বাণিজ্য

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনের মামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: পণ্য আমদানিতে একের পর এক শুল্কারোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মামলা করেছে চীন। গতকাল চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। গত রোববারই যুক্তরাষ্ট্র ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্কারোপ করে এবং চীন মার্কিন অপরিশোধিত তেলে শুল্কারোপের ঘোষণা দেয়। খবর: রয়টার্স।
চীন শুল্ক মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধিতে তাদের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছেন। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি জাপানের ওসাকায় দু’দেশের নেতাদের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে একটি সমঝোতা হয়। কিন্তু সেই সমঝোতাকে লঙ্ঘন করে নতুন করে শুল্ক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। তাই চীন বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী আইনি লড়াই চালাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দু’দেশের কর্মকর্তারা ভোগ্যপণ্যে শুল্কারোপ এড়াতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন শুল্কে চীন থেকে আমদানি করা ভোগ্যপণ্যের দুই-তৃতীয়াংশই শুল্কের আওতায় এলো। যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা ৮৭ শতাংশ বস্ত্র ও পোশাক এবং ৫২ শতাংশ পাদুকায় শুল্ক বসল। বছরের শেষের দিকে দ্বিতীয় দফায় আবারও শুল্ক কার্যকর হলে সব আমদানি করা চীনা ভোগ্যপণ্যে মার্কিন শুল্ক বসবে।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। এর মধ্যেই গত মাসে নতুন করে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে ‘স্বল্প সময়ের’ জন্য এ ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়েছে। ধাপে ধাপে বেড়ে এটি ২৫ শতাংশও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে হুশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘চীনের সঙ্গে এমনটা করা অনেক আগেই কারও উচিত ছিল।’
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক বছরেরও আগে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ প্রথম মার্কিন তেলের ওপর শুল্কারোপ করল চীন। এছাড়া, দুপক্ষই চলতি বছরের শেষের দিকে পরস্পরের পণ্যের ওপর আরও বাড়তি শুল্কারোপ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি বলেছে, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এসব বাড়তি শুল্কারোপের কারণে চীনের উন্নয়ন থেমে থাকবে না। পত্রিকাটি বলছে, চীনের বিস্ফোরণোম্মুখ অর্থনীতি এখানকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রকে এত বেশি উর্বর করেছে যে, বিদেশি কোম্পানিগুলো তা উপেক্ষা করতে পারবে না।

সর্বশেষ..