বাণিজ্য সংবাদ

বিশ্ব শিল্পায়ন সম্মেলনে শিল্পমন্ত্রী:পোশাক শিল্পে ৫০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্য

শেয়ার বিজ ডেস্ক: শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক শিল্প খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ শিল্প খাতে ৪৪ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি কাজ করছে, যার ৭৫ শতাংশই নারী। এছাড়া তৈরি পোশাকশিল্প খাতের ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প কারখানায় প্রায় ৫০ লাখ লোক জড়িত। সরকারের নীতি সহায়তা ও উদ্যোক্তাদের দৃঢ় মনোবলের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাতে রফতানি প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শিল্পমন্ত্রী গতকাল বুধবার আবুধাবির প্যারিস সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘ফোকাস অন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন। বিশ্ব উৎপাদন ও শিল্পায়ন সম্মেলন উপলক্ষে এ প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়।

দি ইকোনমিস্ট পত্রিকার ইনোভেশন এডিটর পল মারকিলির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উইকো-টেক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ ডায়নার্স, ভিয়েতনাম ন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লি টিয়েন তোরাং, ইন্দোনেশিয়ার উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান রাজেকি ইসমানের প্রেসিডেন্ট আইওয়ান সেতিওয়ান লোকমিন্টো প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন।

প্যানেল আলোচনায় শিল্পমন্ত্রী বলেন, অপার সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে গত শতাব্দীর শেষ দিকে তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ ঘটে। ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়ের অধিকারী বাংলাদেশে বিপুল জনসংখ্যা, অভ্যন্তরীণ বিরাট বাজার, সস্তা শ্রমশক্তি এবং সেলাই কাজে ঐতিহ্যগত দক্ষতা এক্ষেত্রে ইতিবাচক অবদান রেখেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির মধ্যে সিংহভাগ তৈরি পোশাকশিল্প খাত থেকে এসেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকশিল্প খাতে বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে বলে তিনি তথ্য তুলে ধরেন।

আমির হোসেন আমু বলেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনে দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তাদের দৃঢ়তা, শিল্প কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কর্মসূচির ফলে এ শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ শিল্পখাতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২২৩ শতাংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রম আইন ও বিধিমালা তৈরি, সব কারখানায় কর্মচারী কল্যাণ ফান্ড ও নিরাপত্তা কমিটি গঠন, কল-কারখানা পরিদর্শন দফতরের দক্ষতা বৃদ্ধি, ২৩৫ জন পরিদর্শক নিয়োগ এবং গুদাম পরিদর্শনের লক্ষ্যে ২১৮টি নতুন পদ সৃজন করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০টি পরিবেশবান্ধব তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৭টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ..