বিশ্ব সংবাদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন দুই শতাধিক গবেষক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বাতাসে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রশ্নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আনুষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ২৩৯ গবেষক। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে লেখা এক  খোলা চিঠিতে ওই গবেষকেরা বলেছেন, করোনাভাইরাস  দীর্ঘসময় বাতাসে  ভেসে থাকার মধ্য দিয়ে যে ভয়াবহ ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, ডব্লিউএইচও সে ব্যাপারে যথাযথ সতর্কতা জারি করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ডব্লিউএইচও ও ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন করোনাভাইরাসের দুই ধরনের সংক্রমণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে। একটি হলো আশপাশের কোনো সংক্রমিত ব্যক্তির কাছ থেকে শ্বাস-প্রশ্বাসের ফোঁটা (ড্রপলেট) শ্বাসের মাধ্যমে ঢুকে যাওয়া। আরেকটি হচ্ছে কোনো কিছুর দূষিত পৃষ্ঠ স্পর্শ করার পর চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করার মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়া।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে অ্যারোসলের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করা হলেও বলা হচ্ছে, এটি কেবল

ইনকিউবেশনের মতো চিকিৎসা কার্যক্রমের সময় ছড়াতে পারে। তবে তাদের মতামত চ্যালেঞ্জকারী গবেষকেরা একাধিক গবেষণার সূত্রে বলছেন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ড্রপলেটের ক্ষুদ্র সংস্করণ বা অ্যারোসল কণা দীর্ঘ সময় বাতাসে ভেসে থাকতে পারে।

ওই বিজ্ঞানীদের মতে, যেসব ঘরে আলো-বাতাস কম, কিংবা বাসসহ অন্যান্য বন্ধ জায়গার ক্ষেত্রে এর প্রভাব বেশি মারাত্মক হতে পারে। এমনকি এসব জায়গায় এক দশমিক আট মিটার দূরত্ব রেখেও কোনো লাভ হয় না। অস্ট্রেলিয়ার  কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির বিজ্ঞান এবং পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক লিডিয়া মোরাউসকা বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে তারা একটি খোলা চিঠি লিখেছেন, যাতে জাতিসংঘের এ সংস্থাকে এ ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্ক করতে ব্যর্থ বলে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ওই চিঠিতে ৩২টি দেশের ২৩৯ গবেষক স্বাক্ষর করেছেন। আগামী সপ্তাহে একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে এটি প্রকাশ করা হতে পারে।

এদিকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর হার কমাতে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং এইচআইভি’র সম্মিলিত ওষুধ লোপিনাভির বা রিটোনাভিরের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বন্ধ ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও। জেনেভার স্থানীয় সময় শনিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক তেতরস আনাধম গেব্রিয়াসাস।

গোটা বিশ্বে এক দিনেই যখন দুই লাখের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, ঠিক এমন সময়ই ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা এলো।  গেব্রিয়াসাস জানান, করোনা চিকিৎসায় রেমডেসিভির, হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও  লোপিনাভির বা রিটোনাভিরের সমন্বিত ট্রায়ালে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার রোগী অংশ নিয়েছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ ট্রায়ালের ফল প্রকাশ করা হবে।

আন্তর্জাতিক স্টিয়ারিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ দুটি ওষুধের ট্রায়াল বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছাড়া বা করোনা প্রতিরোধের জন্য এ ওষুধগুলোর ট্রায়াল যেসব গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় চালানো হচ্ছে, তা স্থগিত বা বাতিল করা হয়নি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..