সম্পাদকীয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে জনবল নিয়োগ করুন

‘হাসপাতালে নেই প্রয়োজনীয় সহযোগী জনবল: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন পরিপালনে ব্যর্থ বাংলাদেশ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তাতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থাই ফুটে উঠেছে।

বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গাইডলাইন অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স ও পাঁচজন সহযোগী জনবল থাকার কথা থাকলেও আমাদের কোনো হাসপাতালে তা নেই। যে জনবল কাঠামো রয়েছে, সেগুলোর আবার অধিকাংশ পদই শূন্য।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ২০ বা ৫০ বছরে স্বাস্থ্য বিভাগে কোন ক্যাটেগরিতে কত জনবল প্রয়োজন হবে, এখনই তা নির্ধারণ করতে হবে। যাতে জরুরি প্রয়োজনে তাদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়।

আমরা জানি, কভিডের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা আরও বড় আকারে সামনে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিকস নিয়োগ দিতে হয়।

যদিও দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন না। প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থায় তারা একজোট হয়ে আন্দোলন করেন এবং হাসপাতালের পরিবেশ বিঘিœত করে। অনেক সময় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে অসহায় হয়ে অন্যায্য দাবিও মেনে নিতে বাধ্য হয়। এতে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি বাড়ে। তাই স্বাস্থ্য খাতে জনবল নিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া উচিত। যত দিন পর্যন্ত তা করা না যাবে তত দিন বিদ্যমান জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এটি ঠিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্দেশনা মেনে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার সামর্থ্য আমাদের নেই। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় কি যথানিয়মে সেবা মিলছে। সব হাসপাতালের প্রবেশপথে লেখা থাকে পরিচালকের বাণী, ‘আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি মুক্ত’। এটি কতটা সত্য, খোদ পরিচালকও জানেন! কেননা গণমাধ্যমে প্রায় হাসপাতাল কর্মীদের কাছে রোগীরা জিম্মিÑএমন খবর প্রকাশিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়ে সত্যতা প্রমাণ হয়, তখন কিছু দিনের জন্য নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এমন সাময়িক ব্যবস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনের পরিপন্থি। চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সহযোগী জনবল নিয়োগে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, স্বাস্থ্য বিভাগের বিদ্যমান কাঠামোতে চিকিৎসক ও নার্সসহ সর্বমোট জনবলের পদ রয়েছে এক লাখ ৬২ হাজার ৪৫০টি। এদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ৪৯ হাজার ৪৫১টি বা ৩৫ শতাংশ। অন্যান্য পদেও অনেক পদ খালি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মানলে এই সংখ্যা আরও বেশি।

সুস্থ জনগোষ্ঠী দেশের সম্পদ। প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত এবং ১ বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সরকারের স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক লক্ষ্য। কম সময়ে এসব লক্ষ্য পূরণ আদৌ সম্ভব নয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে সরকার পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..