সুস্বাস্থ্য

বিষন্নতার কারণ ও প্রতিকার

বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। মানসিক রোগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বিষন্নতা। একটি জরিপে দেখা গেছে, কমবেশি প্রায় সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময় বিষন্নতায় ভুগে থাকেন। অর্থাৎ যে কোনো বয়সে এতে আক্রান্ত হতে পারেন আপনিও। কিছু বিষন্নতার ধরন গভীর প্রকৃতির, কিছু হালকা প্রকৃতির। মূলত আবেগের কারণে বিষণœতা দেখা দেয়। সাধারণত মানুষ যখন তার প্রিয়জনকে হারায় বা প্রিয় বস্তু হারায় বা কোনো কিছু অর্জনে ব্যর্থ হয়, তখনই বিষণœতার সৃষ্টি হয়। বিষন্নতা দেখা দিলে শুধু মনই খারাপ হয় না, শরীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকেও তা ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে দৈনন্দিন কাজের প্রতি বিস্বাদ তৈরি হয়।

নানা কারণে বিষন্নতা বেড়ে যায়। এটি দীর্ঘমেয়াদি হলে মৃত্যুর মতো বড় ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এ অনাকাক্সিক্ষত বিপদ থেকে রক্ষা পেতে এর কারণগুলো জানা আবশ্যক।

#    জিনগত ও পারিবারিক কোনো বিষাদের কারণে বিষন্নতা বাড়তে পারে

#    কিছু ওষুধ রয়েছে যেগুলো মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে। এগুলো থেকে বিষন্নতা হতে পারে

#    কোনো কারণে মানসিক চাপ বাড়লে, বিশেষ করে ডিভোর্স, প্রিয়জনের মৃত্যু, চাকরি চলে যাওয়া প্রভৃতি কারণে বিষন্নতা বাড়ে

#    দীর্ঘমেয়াদি কাজের চাপও বিষন্নতা বাড়ায়

#    দীর্ঘদিন ধরে কঠিন রোগে ভুগছেন এমন রোগীদের মধ্যে বিষন্নতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ এ সময় তারা রোগ নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ে। কবে সুস্থ হবে, রোগ আদৌ নিরাময় হবে কি না, চিকিৎসায় কেমন খরচ হতে পারে এসব বিষয় বিষন্নতা বাড়িয়ে দেয় কিছু বিষন্নতা এমনিতেই সেরে যায়। আর কিছু বিষন্নতা সারিয়ে তুলতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন পড়ে। তবে কয়েকটি পরামর্শ মেনে চলতে পারলে দ্রুত পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

#    এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। এসব নেতিবাচক চিন্তা দূর করতে হবে। ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করতে হবে

#    বিষন্নতা দূর করতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। কমপক্ষে আট ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু বিষন্নতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আট ঘণ্টার বেশি ঘুমানো উচিত

#    ভালো খাবারও বিষন্নতা দূর করে। নিয়মানুযায়ী শাকসবজি, ফলমূল, ডাল প্রভৃতি খেতে হবে। চিপস, বিস্কুট, বার্গার ও কোমল পানীয়এসব খাবার এড়িয়ে চলতে হবে

#    বিষন্নতা দূর করতে নিয়মিত যোগব্যায়াম করুন। যেকোনো মানসিক সমস্যা দূর করতে এটি বেশ কার্যকর। তাই এ সময় বাসায় বসে যোগব্যায়াম করুন, কিংবা কোনো জিমে যেতে পারেন

#    জীবনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন। দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ দিতে হবে। রুটিন অনুযায়ী কাজ শুরু করতে হবে। যখনই বিষন্নতা অনুভব হবে, তখনই কোনো কাজে হাত দিন। এতে নতুন কিছুও শেখা হবে এবং বিষন্নতাও দূর হবে

#    বিষন্নতার সময় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ইতিবাচক হবে মন

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..