পাঠকের চিঠি

বিসিএসে ফার্মাসিস্টদের জন্য আলাদা কোটা

পাঠকের চিঠি

২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস। প্রতিবছর এ দিনটি ‘ওয়ার্ল্ড ফার্মাসিস্ট ডে’ হিসেবে ২০১০ সাল থেকে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে। আমাদের দেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা স্বাস্থ্যসেবা, যার প্রধান নিয়ামক ওষুধ। সেই জীবনরক্ষাকারী পাথেয় ওষুধ তৈরি থেকে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করেন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা। সাধারণ মানুষকে এ মহান পেশা সম্পর্কে জানাতে এবং এ পেশার মানকে উচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন রাখতে সারা বিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।
চলতি বছরের ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সবার জন্য নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ’। ওষুধ তৈরির পাশাপাশি তার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা ও সর্বনিম্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে নানা ধরনের কাজ করেন ফার্মাসিস্টরা। ফার্মাসিস্টদের কাজের মধ্যে রয়েছে একটি ওষুধ কোন রোগের জন্য, কী কী উপাদান কী পরিমাণে মিশিয়ে ওষুধ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হয়, ওষুধ সম্পর্কে সঠিক তথ্য বিতরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার ও প্রভাব নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসাগত প্রয়োগ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া প্রভৃতি।
অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অসংখ্যা মেধাবী ফার্মাসিস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রতিবছর তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের ফার্মাসিস্টদের মেধা ও প্রজ্ঞায় দেশের তৈরি করা ওষুধ দেশের মানুষের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের পক্ষে এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, এমন মহৎ পেশায় নিবেদিতপ্রাণ ফার্মাসিস্টরাই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশার কর্মক্ষেত্র বাংলাদেশে অত্যন্ত সীমিত। এখনও হসপিটাল ও কমিউনিটি ফার্মাসি চালু হয়নি। ফলে মেধাবী ফার্মাসিস্টরা অর্জিত জ্ঞানকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারছেন না। ফলে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দেশের জনসাধারণ। অনেক সেক্টরে বাংলাদেশ বড় সাফল্য পেলেও স্বাস্থ্য খাতে অনেক পিছিয়ে পড়ছে। সেইসঙ্গে দেশের মেধাবী ফার্মাসিস্টরাও কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে। পাড়ি দিচ্ছেন উন্নত দেশগুলোয়।
তাই এমন আশঙ্কাজনক মেধা পাচার রোধে ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জনসাধারণের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ফার্মাসিস্টদের যথাযথ মূল্যায়ন করুন। অনতিবিলম্বে হসপিটাল ফার্মাসি, কমিউনিটি ফার্মাসি চালুকরণ এবং বিসিএসে ফার্মাসিস্টদের জন্য আলাদা কোটা নির্ধারণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে সরাসরি অন্তর্ভুক্তিকরণ একান্ত জরুরি।

তানভীর আহমেদ রাসেল
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..