Print Date & Time : 11 August 2022 Thursday 6:29 am

বিস্তৃত বন্যা সামাল দিন দক্ষতার সঙ্গে

 

সিলেট অঞ্চলের পর বন্যার বিস্তৃতি ঘটেছে উত্তরবঙ্গে। এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সেসব অঞ্চলের নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। অবশ্য উত্তরবঙ্গ প্লাবিত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ভারতে তিস্তা ব্যারাজের সøুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া। ওখানেও অতিবৃষ্টিতে জনপদ প্লাবিত। নিজেদের দুর্ভোগ কমাতে তারা পানি ছেড়ে দিয়েছে ভাটির দিকে। খরার সময় অবশ্য ঘটে বিপরীত চিত্র। দুই দেশের সরকার আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার একটি কাক্সিক্ষত সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করতে পারি আমরা।

দেশে এবার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এতে নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক উভয় রাজধানীই শিকার হচ্ছে তীব্র জলজটের। তবে উত্তরবঙ্গ ও সিলেট অঞ্চল বন্যাকবলিত হওয়ায় ধানের উৎপাদন একাধিক মৌসুম ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাওরে বোরোর উৎপাদন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ায় প্রথম দফা চালের দাম বৃদ্ধি পায়। অনেক অঞ্চলে এবার আউশও বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আমনের বীজতলা। এবার সরকারের আপৎকালীন মজুত ছিল অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক কম। বিগত ক’বছরে দেশে এ মাত্রার বন্যা বা অন্য কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় হয়তো প্রশাসনের প্রস্তুতি কাক্সিক্ষত পর্যায়ে ছিল না। সময়মতো আবহাওয়ার সঠিক পূর্বাভাস পাওয়া গেলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে পড়তো না বলেই মনে হয়। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট রয়েছে। ফসলের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোলট্রি ও গবাদিপশু। বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ রাখায় শিক্ষাকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রোজগেরে মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। খবর আসছে নদীভাঙনের। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাঁধ। বসতবাড়ি, শিক্ষা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জায়গাজমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এতে অসহায় হয়ে পড়ছে সেখানকার মানুষ। সুষ্ঠু ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলেও পরবর্তীকালে তাদের পুনর্বাসন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে সরকার।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। আছে এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। এক্ষেত্রে আরও সক্ষমতা অর্জনে সরকারি দফতরগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। বন্যার বিস্তৃতি হয়তো রোধ করা যাবে না; কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে। ত্রাণ কার্যক্রমে বহুল আলোচিত অনিয়ম ও দুর্নীতি এড়াতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেন পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ পর্যায়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা উচিত। ভবিষ্যতে বন্যাসহ দুর্যোগ মোকাবিলা ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় দক্ষ ও বিশেষায়িত সংস্থা গড়ে তোলা যায় কি না, সেটি বিবেচনায় রাখা যেতে পারে। বন্যার কারণে দেশের কৃষি, মৎস্য, পোলট্রি ও গবাদিপশুর মতো সম্পদের যে ক্ষতি হলো, তা সামাল দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করলে সুফল লাভ করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানি বাড়িয়ে, বিশেষত সেসবে কর-শুল্ক কমিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেলেও পরে আপৎকালীন মজুত যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।