মার্কেটওয়াচ

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে অনৈতিক কাজ হয়

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

পুঁজিবাজারে নতুন কোনো কোম্পানি নির্ধারিত দর অথবা বুক বিল্ডিং এ দুই পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে আসে। কিন্তু এ দুই জায়গাতেই নানা সমস্যা রয়ে গেছে। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে একটি কোম্পানিকে যখন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হয়, সেখানে অনৈতিক অনেক কাজ হয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা যখন শেয়ারটিতে লাভবান হন, তখন কিছু বলেন না। কিন্তু যখনই শেয়ারটির দর পড়তে থাকে, তখনই বিএসইসিকে দোষারোপ করেন। মনে হয় যেন বিএসইসি দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে সবাইকে লাভ করিয়ে দেওয়ার। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইনজীবী ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক হাসান মাহমুদ বিপ্লব এবং বিএসইসির সাবেক নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল করিম ভূঁইয়া।

হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন একটি কোম্পানি এসেছে ‘ওইমেক্স’। এ ১০ টাকার শেয়ারটি প্রথম দিনেই ১০৪ টাকা বা এক হাজার ৪৭ শতাংশ বেড়ে এখন ১১৪ টাকায় ট্রেড হচ্ছে। ১২০ টাকাতেও উঠেছিল এর দর। আর এ উত্থানের জন্য তিনটি পক্ষ দায়ী। প্রথমত, ওইমেক্স কোম্পানির মালিকরা। কারণ কিছু কোম্পানি বাজারে আসার সময় ভালো জিনিস অনেক সময় গোপন করে আসে। শেয়ারের বড় অংশ যেহেতু তাদের হাতে থাকে, তাই তারা কম শেয়ার ছেড়ে পরে কিছু ডিসক্লোজার দেয়। আর এখন মাত্র দুই কোটি শেয়ার ছাড়লেই আইপিও পাওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, দুর্ভাগ্যবশত আমরা ডি-মিউচুয়াল স্টক এক্সচেঞ্জ করেছি। কিন্তু এটির কৌশলগত অংশীদার না নেওয়ায় আগে যে ব্রোকার দ্বারা ডিএসই চলত, সেটি থেকেও খারাপ হয়ে গেছে। কারণ বর্তমান এমডি এখনকার বোর্ডের স্বাধীনতা পেয়ে গেছেন। আর এখনকার বোর্ডের কোনো ইন্টারেস্ট নেই। কিন্তু ৩০ শতাংশ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার নিলে তাদের সরাসরি ইন্টারেস্ট থাকত। তখন তারা এতে হস্তক্ষেপ করত। তৃতীয়টি হচ্ছে আমাদের বিনিয়োগকারীরা। প্রাইমারি বিনিয়োগকারীরা এ শেয়ারটি পেয়েছে ১০ টাকায়। সেকেন্ডারি মার্কেটের বিনিয়োগকারীরা যদি শেয়ারটির দর ২০-৩০ টাকার ওপরে অফার না করত, তাহলে এত বাড়তে পারত না। বিনিয়োগকারীরা হয়তো ভাবেন, ৭০ টাকায় শেয়ারটি কিনে পাঁচ-সাত দিনে ১১০-১২০ টাকা হবে এবং প্রফিট সংগ্রহ করবে। তারা পাঁচ দিনে লাভ পায় এবং পাঁচ-ছয় মাস পর এ ধরনের শেয়ারের দর ৫০-৬০ শতাংশ পড়ে যায়। এমনও হয়, এক সময় এর দর তিন ভাগের এক ভাগে নেমে যায়। কাজেই সব বিনিয়োগকারীকে বলব, এ শেয়ারটি আপনারা কিনবেন না। আইপিও যারা পেয়েছেন, তারাও পুরো শেয়ারটি বিক্রি করে দেন। এতে যারা এটিকে নিয়ে কারসাজি করে, তাদের শিক্ষা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বুঝতে হবে যে, মানি মার্কেট ও ক্যাপিটাল মার্কেট যদি এক সঙ্গে কাজ না করে এবং তিনি যদি তার অ্যাটিচিউট নিয়ে বসে থাকেন, তাহলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া আমাদের বাজার এখন তিন লাখ কোটি টাকার। সেদিক বিবেচনায় কমপক্ষে তিন হাজার কোটি টাকার টার্নওভার হওয়া উচিত বাজারে।

আনোয়ারুল করিম ভূঁইয়া বলেন, নির্ধারিত দর ও বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওগুলো আসে। আর এ দুই জায়গাতেই কিন্তু সমস্যা রয়ে গেছে। অযথা সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে একটি কোম্পানিকে যখন বাজারে আনা হয়, তখন  সেখানে অনৈতিক অনেক কাজ করা হয়। যারা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিটি করেছেন, তাদের আমি এমন কথাও বলেছি যে মানুষের টাকাগুলো এভাবে মেরে খাওয়া কি ঠিক হবে? তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যখন একটি শেয়ারে লাভবান হন, তখন তারা কিছু বলেন না। কিন্তু যখনই শেয়ারটি পড়তে থাকে, তখনই সবার নজর থাকে বিএসইসির দিকে। মনে হয় যেন বিএসইসি দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে সবাইকে লাভ করিয়ে  দেওয়ার। কিন্তু সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে ডি-মিউচুয়ালাইজেশন করা হয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জকে। যেখানে তাদের মূল দায়িত্বই হচ্ছে সম্পূর্ণ স্টক মার্কেটকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সারা পৃথিবীতেই তাই করা হয়।

 

শ্রুতি লিখন: রাহাতুল ইসলাম

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..