সম্পাদকীয়

বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন

মাথাপিছু আয়, জিডিপির প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়সহ অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই যখন ইতিবাচক, তখন পুঁজিবাজারের বিপরীত অবস্থায় সচেতন নাগরিক মাত্রই উদ্বিগ্ন হবে। এটি সরকারের জন্যও অস্বস্তিকর। অবশ্য কভিডকালে পুঁজিবাজারে বেশ খানিকটা গতি দেখা গেছে। তবে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থার দুর্বল অবস্থান বা বিশেষ কোনো পদ্ধতিতে সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই তা সমাধানে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন পুঁজিবাজারের প্রাণ। তাই তাদের সুরক্ষা এবং তাদের বাজারে ধরে রাখতে হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বাজারে ধরে রাখতে বিশ্বের অনেক দেশের পুঁজিবাজারে বাইব্যাক পদ্ধতির প্রচলনও আছে। এ পদ্ধতি থাকলে পুঁজিবাজারে দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ কম। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীকে ভোগান্তি পোহাতে হয় না।

বাইব্যাক পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ারদর অভিহিত দর বা ইস্যু দরের নিচে নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কিংবা ইস্যু ম্যানেজারকে এ শেয়ার কিনে নিতে হয়। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই লাভবান হন। কোম্পানিগুলোর মধ্যেও দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি তৈরি হয়।

গতকাল শেয়ার বিজে ‘বুক বিল্ডিং বাতিল চেয়ে বিএসইসিতে আবেদন’ পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে অসদুপায় অবলম্বন করে শেয়ারের দাম যৌক্তিক দামের চেয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই এ পদ্ধতি বাতিল করে ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদনের জন্য বিএসইসিতে আবেদন করেছেন তারা।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির দুর্বলতায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ, ইস্যু ম্যানেজার ও অসৎ যোগ্য বিনিয়োগকারীদের যোগসাজশে শেয়ারের দাম প্রকৃত দামের চেয়ে অতি মূল্যায়িত করা হয়। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওতে আসা কয়েকটি কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন আবেদনকারীরা। তাদের অভিযোগ, কোম্পানি সচিবদের সহযোগিতায় বাজারে আসার পর শেয়ারের প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এসব কোম্পানি।

সাম্প্রতিক সময়ে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওতে আসা ওয়ালটন হাইটেকও শেয়ারদর প্রকৃত দামের তুলনায় বেশি দেখায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোম্পানিটি এক শতাংশের কম শেয়ার নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টাসহ এ খাতের বিভিন্ন ব্যক্তি এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারাও বলে আসছেন, এটা বাজারের ভারসাম্যহীনতা বা ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিএসইসি চেয়ারম্যানও বলেছেন, এটি পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।

পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এখনও এ বাজারের সুফল পাচ্ছেন গুটিকয়েক বড় বিনিয়োগকারী। এটি সর্বজনীন হয়ে ওঠেনি। পুঁজিবাজারকে সর্বজনীন করে তুলতে বিনিয়োগকারীদের যৌক্তিক দাবি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো কারণে বাজার পড়ে গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন নড়েচড়ে বসে। এরপর কাজে ধারাবাহিকতা থাকে না; থাকে না নজরদারিও। বুক বিল্ডিং পদ্ধতির যে সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা, সেটি শতভাগ ন্যায্য ও সঠিক, আমরা তা বলছি না। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের দাবি খতিয়ে দেখতে পারে। এক্ষেত্রে পদ্ধতি বাতিল না করলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যেতে পারে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..