বুলবুলকবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিন

প্রকাশ: নভেম্বর ১৭, ২০১৯ সময়- ১০:৪৪ অপরাহ্ন

বিশ্বের সব দেশই বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের চেষ্টা করছে। আমাদের সরকারও ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো শুরু করেছে পাঁচ মিনিটেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিনব কর্মসূচি ‘আলোর ফেরিওয়ালা’। এ কর্মসূচির আওতায় গ্রামে গ্রামে রিকশায় বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ঝুলিয়ে সংযোগ দিচ্ছেন পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা।

বিদ্যুতে আমাদের সাফল্য বেড়েই চলেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মেট্রোরেলের পর বিদ্যুৎচালিত ট্রেনও চালু করা হবে। অবশ্য গত মে মাসেই বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই কোটি মানুষ এখনও বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে। বিদ্যুৎবিহীন জনগোষ্ঠীর শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশও। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করলেও এখনও বিপুল জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ পরিষেবার বাইরে। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। গত সপ্তাহেও প্রধানমন্ত্রী সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেছেন। অচিরেই দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসছে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদন ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব: গোপালগঞ্জে ২৫ হাজার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন’ যেন সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত ৯ নভেম্বর গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে ১৬১টি খুঁটি ভেঙে যায় এবং আরও ২০০ খুঁটি হেলে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় বিস্তীর্ণ জনপদের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে, ফ্রিজের খাদ্য নষ্ট হয়ে গেছে। চার্জ দিতে না পারায় ইজিবাইকগুলো চালাতে পারছেন না চালক। শিক্ষার্থীরাও রয়েছে বিপাকে। তাদের বার্ষিক পরীক্ষা, প্রাথমিক-ইবতেদায়ী সমাপনী, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বিঘœ ঘটছে। বিদ্যুতের আলোয় পড়তে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীরা হারিকেন ও মোমবাতির আলোয় বেশি সময় পড়তে স্বস্তিবোধ করছে না। বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে টাকা আদায়ের অভিযোগও করছেন গ্রাহক।

আমরা আশা করি, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি শিগগিরই জনদুর্ভোগ নিরসনে ব্যবস্থা নেবে। এটি ঠিক, বিকল্পভাবে ওই সংযোগ দিতে দু-তিন দিন সময় লাগবে। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে বসতবাড়ি ও ফসলের ক্ষতিতে এমনিতেই সাধারণ মানুষ বিপর্যস্ত। এ অবস্থায় অর্থের বিনিময়ে সংযোগ দিয়ে গ্রাহক হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কেবল গোপালগঞ্জই নয়, দেশের সব ঘূর্ণিঝড়-বিধ্বস্ত অঞ্চলে শিগগির বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।