স্পোর্টস

বৃষ্টিও বাঁচাতে পারেনি বাংলাদেশকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক: একদিন আগেই চট্টগ্রাম টেস্টের ফল বোঝা হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। তারপরও সাকিব আল হাসানের মতো তারকাও তাকিয়ে ছিলেন বৃষ্টির দিকে। গতকাল টেস্টের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের বেশ বড় একটা অংশ বৃষ্টির দখলে ছিল। তবুও পারেনি টাইগাররা বাকি ৪ উইকেট নিয়ে দিন পার করতে। মাত্র ১৭.২ ওভারেই গুটিয়ে যায় ১৭৩ রানে। তাতে ২২৪ রানে আফগানিস্তানের কাছে হেরে লজ্জায় পড়ে স্বাগতিকরা।
চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনের প্রায় পুরোটাই ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। আফগানদের জয়ের আশাও তাই প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে শেষ বিকালে সফরকারীদের খানিকটা সুযোগ দিল প্রকৃতি। তারা সেটুকুই লুফে নেয়।
বৃষ্টি বিরতির পর বল মাঠে গড়াতে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ছিল মাত্র ৭০ মিনিটের। কিন্তু শুরুতেই অবিশ্বাস্য বাজে এক শটে ফেরেন সাকিব। চায়নাম্যান বোলার জহির খানের বলটি ছিল শর্ট, অফস্টাম্পের বেশ বাইরে। ছেড়ে দিলে কিছুই হতো না বাংলাদেশ অধিনায়কের। কিন্তু সাকিব যান কাট করতে। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ৫৪ বলে ৪৪ করে দলকে মহাবিপদে ঠেলে ফেরেন সাকিব। এদিকে একবার জীবন পেয়েও টিকতে পারেননি মেহেদি হাসান মিরাজ। এ ডানহাতি রশিদ খানের গুগলি বুঝতে পারেননি। সামনে পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল লাগে পায়ে। আউট দেন আম্পায়ার। বাঁচতে রিভিউ নিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু বল লাগছিল স্টাম্পে। তার বিদায়ের পর অবশ্য টাইগারদের ভরসা হয়ে ছিলেন সৌম্য সরকার। অন্য প্রান্তে তাইজুল চেষ্টা করেছিলেন তাকে সঙ্গ দিতে। কিন্তু এ বাঁহাতি আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে ফেরেন সাজঘরে। রশিদ খানের বল ডিফেন্স করেছিলেন তাইজুল। ব্যাট আর পা ছিল কাছাকাছি। ব্যাটের কানায় লেগে বল লাগে পায়ে। আফগানদের জোরালো আবেদনে বেশ কিছুটা সময় নিয়ে আঙুল তুলে দেন অভিষিক্ত আম্পায়ার পল উইলসন।
তাইজুলের উইকেট নিয়ে ইনিংসে ৫ম শিকার ধরেন রশিদ। প্রথম ইনিংসেও তিনি নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। সব মিলিয়ে নেতৃত্বের অভিষেকেই ১০ উইকেট! এদিকে ব্যাট হাতে তিনি করেছিলেন প্রথম ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি। এই কীর্তি নেই আর কারও।
তাইজুল ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে দিনের বাকি ওভার ঠেকিয়ে পার করতে চেয়েছিলেন সৌম্য। কিন্তু রশিদের লেগ মিডলে থাকা বল সামনের পায়ে ডিফেন্স করতে গিয়ে শর্ট লেগে ইব্রাহিম জাদরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন সৌম্য। তার বিদায়ে আফগানিস্তান বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে। মাত্র তৃতীয় টেস্টেই আফগানদের এটি দ্বিতীয় জয়। টেস্ট ইতিহাসে ২ জয় পেতে ৩ ম্যাচ লেগেছিল কেবল অস্ট্রেলিয়ার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৪২
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২০৫
আফগানিস্তান ২য় ইনিংস: ২৬০
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৯৮, আগের দিন ১৩৬/৬) ৬১.৪ ওভারে ১৭৩ (সাকিব ৪৪, সৌম্য ২, মিরাজ ১৫, তাইজুল ০, নাঈশ ১*; ইয়ামিন ৪-১-১৪-০, নবি ২০-৫-৩৯-১, রশিদ ২১.৪-৬-৪৯-৬, জহির ১৫-০-৫৯-৩, কাইস ১-০-৬-০)।
ফল: আফগানিস্তান ২২৪ রানে জয়ী
সিরিজ: আফগানিস্তান ১-০তে জয়ী
ম্যাচসেরা: রশিদ খান।

 

 

 

সর্বশেষ..