সুশিক্ষা

বৃষ্টিবিলাসে একদিন

দীর্ঘক্ষণ ধরে ঝুমঝুম শব্দে বৃষ্টি হচ্ছে। অ্যাকাডেমিক ভবনের এক কোণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ করছিলাম। দূর থেকে বুঝতে পারছিলাম তারা আড্ডা দিচ্ছেন। মাঝেমধ্যে উচ্চ স্বরে হাসছেন তারা। সে হাসির গভীরতা ছুঁয়ে যাচ্ছিল আমাকেও। হঠাৎ পরিচিত দু-একটা মুখ দেখে এগিয়ে গেলাম। কথা বলে জানতে পারলাম তারা ক্যাম্পাসের বৃষ্টির এ সময়টুকু দারুণভাবে উপভোগের চেষ্টা করছেন। ক্লাসের মাঝে বিরতি, চলছে বৃষ্টি এ যেন সোনায় সোহাগা। বলছিলাম সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের একদল শিক্ষার্থীর বৃষ্টিবিলাসের কথা।
এমনিতে এ সময়ে সারা দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি চলতে থাকে। শিক্ষার্থীরা অবসর পেলেই বৃষ্টির টিপ টিপ ছন্দে মেতে ওঠে। বৃষ্টিতে জমে ওঠে তাদের গল্প, আড্ডা। এসব আড্ডায় ছোট-বড়, ছেলেমেয়ে কোনো ভেদাভেদ নেই। আড্ডাতে অনেক অপেশাদার কণ্ঠের গান নতুন মাত্রা যোগ করে। সবাই নিজের মতো করে প্রাণখুলে সময়টা উপভোগ করেন। এ সময়ে মনের মানুষের সঙ্গে রোমান্টিকতার সুযোগ মিস করতে চায় না কেউই। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকরাও এ সময় খোশগল্পে মেতে ওঠেন। জানালার পাশে বসে বৃষ্টি উপভোগ ও গল্প অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের দিকে তাকাতেই মনটা কয়েক বছর পেছনে চলে গেল। গ্রামে বৃষ্টির মাঝে ফুটবল খেলা ও দুরন্তপনা মনে পড়ে যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী ফুটবল খেলছিলেন। তারাও যেন ছোটবেলায় ফিরে যাচ্ছিলেন। ট্রান্সপোর্ট ইয়ার্ডে চোখে পড়ল বড় গাছের নিচে কয়েকটা কুকুরের কাকভেজা হয়ে জড়সড় অবস্থায় থাকার দৃশ্য। মাঝেমধ্যে গাছের ফাঁকে পাখির কিচিরমিচির শব্দও ভেসে আসছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা একপ্রান্তে জড়ো হয়ে তাদের মতো করে সময়টা উপভোগ করছিলেন। দূরে প্রশাসনিক ভবনের দিকে তাকাতে মনে হলো সেখানেও যেন আড্ডার আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিময় আবহাওয়া যেন পুরো ক্যাম্পাসে আড্ডার নানা রং নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
গ্রাম ও শহরের মিশেলে এমনিতে অপরূপ হয়ে উঠে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বর্ষায় যেন নবরূপ পায়। যেন সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা যোগ হয়। ক্যাম্পাসের বাদামতলা, ট্রান্সপোর্ট ইয়ার্ড, বকুতলা, মিডিয়া চত্বর, পিঠাঘর, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সবই যেন নতুনভাবে আবির্ভূত হয়। নতুন প্রাণের উদ্ভব ঘটে এসব স্থানে। বৃষ্টির অবিরাম বর্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দেয়াল চকচক করতে থাকে। হঠাৎ মনে হলো এ বৃষ্টির মাঝে ক্যান্টিনের এক কাপ কফি হলে মন্দ হয় না। ছাতা নিয়ে ক্যান্টিনের দিকে বের হতেই দেখি একদল গায়ক গিটারের তালে তালে তাদের প্রতিভার বিকাশে ঘটাতে ব্যস্ত। তাদের গিটারের সুর যেন বৃষ্টির সঙ্গে তাল মিলাচ্ছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তাদের গান শুনলাম। সত্যি বলতে বৃষ্টিভেজা এ দিনে সবই ভালো লাগছিল। তাদের গান শেষে কথা বললাম কয়েকজনের সঙ্গে। তাদের একজন বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশিক বলেন, বৃষ্টির মাঝে ক্যাম্পাসে আড্ডার মজাই অন্যরকম। বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী, বড়ভাই, ছোটভাই সবার সঙ্গে সময় কাটাতে অনেক ভালো লাগে। বৃষ্টির মাঝে ক্লাসে মন বসানো দায়। তবে ক্লাস শেষে অনুভব করি জানালার একপাশে বৃষ্টি, আরেকপাশে ক্লাস; ব্যাপারটা মন্দ নয়।
কথা শেষে ক্যান্টিনে চলে আসি। গিয়ে দেখি পুরো ক্যান্টিন ভর্তি। অগত্যা কফি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে গেলাম। কফির প্রতিটা চুমুক যেন নতুনভাবে বৃষ্টিকে উপভোগের সুযোগ করে দিচ্ছিল।

মো. রাকিবুল হাসান

সর্বশেষ..