বিশ্ব বাণিজ্য

বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর দ্বন্দ্বে বিশ্ব পুঁজিবাজারে পতন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ দীর্ঘদিনের। এ বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে আলোচনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ৩০ হাজার ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাব দেবে বলে জানিয়েছে চীনও। এদিকে জাপান জানিয়েছে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। বৃহৎ অর্থনীতির এ দেশগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব পুঁজিাবাজারে। গত শুক্রবার মার্কিন পুঁজিবাজারে বড় পতন হয়। নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও। খবর: সিএনএন ও রয়টার্স।
গত শুক্রবার মার্কিন পুঁজিবাজারের নাসডাক সূচক এক দশমিক ৩২ শতাংশ পড়েছে। এছাড়া অন্য দুই প্রধান সূচক ডাও জোনস ও এসঅ্যান্ডপিও পড়েছে যথাক্রমে দশমিক ৩৭ ও দশমিক ৭৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে। ইউরোপের বাজারের মধ্যে লন্ডনের এফটিএসই সূচক কমেছে দুই দশমিক ৩৪ শতাংশ, জার্মানির ডিএএক্স সূচক কমেছে তিন শতাংশের বেশি এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক কমেছে তিন দশমিক ৫৭ শতাংশ। এদিকে এশিয়ার বাজারের মধ্যে হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক কমেছে দুই দশমিক ৩৫ শতাংশ, চীনের সাংহাই সূচক কমেছে এক দশমিক ৪১ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই সূচক কমেছে দুই দশমিক ১১ শতাংশ। এছাড়া এ দুই অঞ্চলের অন্য পুঁজিবাজার সূচকও ছিল নি¤œমুখী।
গত বৃহস্পতিবার নতুন করে ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্মার্টফোন, পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে। ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে যে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আছে, তাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে বেইজিংয়ের রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বেইজিংও মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ শুরু করে। বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমাতে এ বছর ওয়াশিংটন ও বেইজিং কয়েক দফা বৈঠকও করেছে। গত সপ্তাহে দু’দেশের প্রতিনিধিদের সর্বশেষ দফা বৈঠক হয়। আর এরপর বৃহস্পতিবার টুইটারে ট্রাম্প নতুন করে আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার ফলে ‘কার্যত’ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত সব চীনা পণ্যেই শুল্ক বসতে যাচ্ছে।
জেপি মরগানের এক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক বলছেন, ‘আলোচনার মধ্যেই এ ধরনের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প চূড়ান্ত নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বৈশ্বিক বিনিয়োগ। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের বিনিয়োগ বন্ধ রেখে এখন অর্থ সঞ্চয়ে আগ্রহী হবেন, যা বাজারে বড় ধরনের তারল্য সংকট সৃষ্টি করবে।’
অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বিশ্লেষক তাই হুই শুক্রবার বলেন, ‘বিশ্বের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শঙ্কিত হওয়ার মতো একটি ঘটনা ঘটে গেল। যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনার ফল কোনোভাবেই ভালো হবে না। বিনিয়োগকারীরা এখন বিনিয়োগের আগে দুবার নয়, তিনবার ভাববেন। বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি অমঙ্গলকর দিন শুরু হয়ে গেল।’
এদিকে এশিয়ার দুই বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যেও বাণিজ্য উš§াদনা তুঙ্গে উঠে গেছে। জাপান গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়াকে সাদা তালিকা থেকে বহিষ্কার করে। এখন থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় থেকে জাপানে আসা পণ্যগুলোকে অতিরিক্ত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আর জাপানের কাছে দক্ষিণ কোরিয়া যে অতিরিক্ত বাণিজ্য সুবিধা পেতো তাও আর দেওয়া হবে না। দক্ষিণ কোরিয়া একমাত্র এশিয়ান দেশ ছিল যাদের সাদা তালিকায় রেখেছিল জাপান। গত শুক্রবার জাপানের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োশেদে সুগা জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এশিয়ার অন্য দেশগুলোর পার্থক্য থাকা উচিত নয়। এটি কোনো মতেই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা নয়। সিউলেরও এটি এভাবে দেখা উচিত হবে না। তবে এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি জানিয়েছে তারা অবশ্যই এ ঘটনার প্রতিশোধ গ্রহণ করবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..