সম্পাদকীয়

বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি নিশ্চিত হোক

আলু পুষ্টির দিক দিয়ে ভাত ও গমের সঙ্গে তুলনীয়। এছাড়া খাদ্য হিসেবে আলু সহজেই হজম হয়। আলুতে যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্যশক্তি রয়েছে। তাছাড়া ভিটামিন ও খনিজ লবণও পাওয়া যায়। আলু দিয়ে মিষ্টি, সেমাই, নানা রকম ভর্তাসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরি করা যায়। তরকারি হিসেবে খাওয়া ছাড়াও প্রক্রিয়াজাত করে চিপস বিক্রি করে গ্রামীণ নারী ও উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে।

ভাতের বিকল্প খাদ্য হিসেবে আলুর ব্যবহার বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। আশির দশকে ‘বেশি করে আলু খান, ভাতের ওপর চাপ কমান’Ñসেøাগান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এক যুগ আগে এক সেনাপ্রধান আক্ষরিক অর্থেই আলুর ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এক অনুষ্ঠানে কেবল আলু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিদের।

বাংলাদেশে আলু এখন জনপ্রিয়। অভিজাত কিংবা হতদরিদ্রÑসবার হেঁশেলেই আলুর দীপ্ত অবস্থান। কিন্তু সে আলুর এখন উচ্চমূল্য। কভিডকালে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, কেজি ৬০ টাকা। বেশি দাম পাওয়ার আশায় মজুতদাররা গুদামজাত করে রেখেছেন। সব সবজির দামই বাড়তি। জনদুর্ভোগ কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘এবার আলুর দাম বেঁধে দিল সরকার’ শীর্ষক প্রতিবেদন সাধারণ মানুষ স্বস্তিবোধ করবেন বলেই ধারণা। 

খবরে বলা হয়, তিন পর্যায়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়Ñকেজিপ্রতি খুচরা পর্যায়ে ৩০ টাকা, পাইকারিতে ২৫ টাকা ও হিমাগার থেকে ২৩ টাকা। এই দামে আলু বিক্রি না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বলছে, কৃষকরা এ বছর ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি ধরে আলু বিক্রি করেছেন। কয়েক হাত ঘুরে হিমাগারে রাখার খরচসহ হিসাব কষলে তা কোনোভাবেই ২০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। তারপরও হিমাগার থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে বলা হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়েও যথেষ্ট যৌক্তিক মুনাফা ধরেই দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

কয়েক দিন ধরে বাজারে বিভিন্ন সবজি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা দরে। অন্য সবজি মজুদের ব্যবস্থা নেই। আবার বন্যায় ফলনও কমেছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। এ ক্ষেত্রে মজুত করা আলু বাজারে ছাড়ছিলেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা। দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। শিগগিরই বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশাবাদী। তবে দাম বেড়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রবণতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সবাই জানে, বাজারে নজরদারি না থাকলে ব্যবসায়ীরা স্বতঃপ্রবৃত্ত হলে নিয়ম আনবেন না। বরং সংঘবদ্ধ চক্র পণ্যের দাম বাড়াবেই। তাই নিত্যপণ্যের দাম যাতে যৌক্তিক থাকে, ক্রেতারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য না হন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..