মত-বিশ্লেষণ

বেকারত্ব দূরীকরণে শিল্প-কারখানা স্থাপনের বিকল্প নেই

আবুল কাসেম হায়দার: গত কয়েক বছর আমাদের দেশে বড় ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি না হয়ে কমেছে। শিল্প-কারখানা বন্ধ হওয়ার নানা কারণ রয়েছে। অন্যদিকে ছোট ছোট শিল্প-কারখানা বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত ছয় বছরে আমাদের দেশে শিল্প-কারখানা বৃদ্ধি পেয়েছে তিন হাজার ৪৯৯টি। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সদ্যপ্রকাশিত তথ্য থেকে দেশের শিল্প খাতের একটি চিত্র আমরা পেয়েছি। ছয় বছরে সাড়ে তিন হাজার বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানা কমেছে, অন্যদিকে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে আট লাখ ৭৫ হাজার। দেশে বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানা বন্ধ হচ্ছে। অনেক উদ্যোগক্তা ব্যবসা গুটিয়ে অন্য ব্যবসায় নামছেন। আবার প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোমেশনের কারণে শ্রমিক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিল্প-কারখানার আকার আরও ছোট হচ্ছে।
গত ছয় বছরে দেশের বড় শিল্প-কারখানা বাড়েনি, বরং কমেছে ৬০৮টি। এ সময়ে মাঝারি শিল্প-কারখানার সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধির হিসাবকে বিতর্কে ফেলেছে বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানা কমে যাওয়া। আবার জিডিপি প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বড় ও মাঝারি শিল্পে কর্মসংস্থানও সে রকম হচ্ছে না। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) উৎপাদন শিল্প জরিপে বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানার এই চিত্র উঠে এসেছে। তবে ভালো দিক হচ্ছে, ২০১২ সালের পর থেকে নতুন করে প্রায় আট হাজার ছোট শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে এখন ৪৬ হাজার ২৯১টি কারখানা আছে। ছয় বছরে কারখানার সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার ৪৯৯টি। ২০১২ সালে দেশে ছিল ৪২ হাজার ৭৯২টি কারখানা। বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানার সংখ্যা কমে যাওয়া সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পাটশিল্প একটি বড় শিল্প ছিল। এই খাতের কারখানা কমেছে। এছাড়া অন্য কোনো খাতের কারখানা বন্ধ হয়নি। তৈরি পোশাক, চা-বাগান, সিমেন্টের মতো বড় শিল্প খাতে কারখানা কমেনি। তবে চামড়াশিল্পের কারখানা স্থানান্তরের কারণে এর সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভিত্তিতে দেশে শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়। এই শিল্প-কারখানা স্থাপনের প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক আছে, কোনো নি¤œগতি নেই। সরকারের কোনো নীতিগত ভুলের কারণে কোনো শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়নি। তার মতে, ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি, আসবাব, ডায়মন্ড কাটিংয়ের বিকাশ হবে। এসব খাতে অনেক কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, বড় শিল্প-কারখানা হবে।
জরিপে যা আছে
পাঁচ-ছয় বছর পরপর উৎপাদন শিল্প জরিপ করে থাকে বিবিএস। বিবিএসের হিসাবে, কোনো কারখানার শ্রমিকের সংখ্যা আড়াইশ’ পেরোলেই বড় শিল্প-কারখানা হিসেবে ধরা হয়। গত ছয় বছরে এমন কারখানার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩১টি। আর ১০০ থেকে আড়াইশ’ শ্রমিকের মাঝারি কারখানা ছয় বছরে কমে হয়েছে তিন হাজার ১৪টি।
২৫ থেকে ৯৯ জন শ্রমিক কাজ করেন এমন কারখানাকে ছোট কারখানা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ছয় বছরে এমন আট হাজার নতুন কারখানা গড়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে দেশে ২৩ হাজার ৫৫৭টি ছোট কারখানা আছে। সারা দেশে অতিক্ষুদ্র কারখানায় যেখানে ১০ থেকে ২৪ জন কাজ করেন, এমন কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৮৯টি।
এ কে খান গ্রুপের পরিচালক ও ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান এ বিষয়ে বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেছে; কিন্তু বিনিয়োগ হচ্ছে। সে কারণে শুধু কারখানার শ্রমিকের সংখ্যা দিয়ে শিল্প খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে আনা সম্ভব নয়। কেননা, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় বড় বিনিয়োগ আসছে।
বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক স্তর নামিয়ে আনার ফলে নব্বইয়ের দশকে অসংখ্য ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০১০ এই দশকেই দেশের শিল্পায়ন বেশি হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ১৫ হাজার নতুন শিল্প-কারখানা হয়েছে, যা ছিল তখনকার মোট শিল্পের এক-তৃতীয়াংশ। ২০১২ সালের পর শিল্পায়নের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। গত ছয় বছরে মাত্র সাড়ে চার হাজার নতুন কারখানা হয়েছে।
গত দুই দশকে শিল্প খাতের বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৯ গুণ। ২০০১-০২ সালের বিবিএসের শিল্প উৎপাদন সমীক্ষা অনুযায়ী, সে সময়ে বছরে ৯০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করত শিল্প খাত। আর এখন শিল্প খাত বার্ষিক আট লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন করছে।
নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, গড়ে ৫৯ শতাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঋণ আছে। প্রতি চারটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি ঋণ নিয়েছে। তবে অতিক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। গড়ে ৪৪ শতাংশ অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়েছে।
গত এপ্রিল মাসজুড়ে ৯ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালায় বিবিএস। চলতি সপ্তাহে জরিপের প্রাথমিক ফলাফল চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে আরও বিস্তারিতভাবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
বিবিএসের শিল্প ও শ্রম শাখার পরিচালক ঘোষ সুবব্রত প্রথম আলোকে বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ব্যবসা সংকুচিত করেছে। শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধই হয়ে গেছে। আবার উদ্যোক্তা নিজেই একটি ব্যবসা বন্ধ করে আরেক ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বিতর্ক
জরিপ অনুযায়ী, বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানায় গত ছয় বছরে চার লাখ ৮২ হাজার ৯৭১ জনের নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে। অর্থাৎ বছরে গড়ে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮০ হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে শিল্প উৎপাদন খাতে প্রতিবছর গড়ে এক লাখ ২৯ হাজার কর্মসংস্থান হয়েছে। অথচ প্রতিবছর শ্রমবাজারে ২০ থেকে ২২ লাখ তরুণ-তরুণী আসছেন। চাকরিপ্রত্যাশী এই বিশাল তরুণ গোষ্ঠীর মাত্র ছয় থেকে সাত শতাংশকে কাজ দিতে পারছে জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা শিল্প উৎপাদন খাত। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির তুলনায় উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থানের হার অনেক কম।
এদিকে চলতি অর্থবছরে আট দশমিক ১৩ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে বলে সাময়িক হিসাব দিয়েছে বিবিএস। কিন্তু জিডিপিতে উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানার হিসাব মিলছে না। একদিকে বিবিএস বলছে, চলতি অর্থবছরে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ; যা খাতওয়ারি হিসাবে সবচেয়ে বেশি। জিডিপিতে যত মূল্য সংযোজন হয়, এর প্রায় ২৪ শতাংশ আসে শিল্প উৎপাদন খাত থেকে। আর বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানার অবদান সাড়ে ২০ শতাংশের বেশি। কয়েক বছর ধরেই জিডিপিতে বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানাগুলোর অবদান ক্রমেই বেড়েছে। কিন্তু জরিপ বলছে, গত ছয় বছরে বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানার সংখ্যা কমে গেছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রবৃদ্ধির সঙ্গে শিল্প-কারখানার হিসাবটি সম্পূর্ণ অসংগতিপূর্ণ। বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানা সংখ্যায় কমেছে, কিন্তু উৎপাদন বেড়েছে এই হিসাব কোনোভাবেই মিলছে না। তিনি এর দুটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, হতে পারে, বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানাগুলো একীভূত হচ্ছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান কিনে নিচ্ছে। অথচ এ ধরনের ঘটনা হলে তো সবাই জানত। যেমন এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক কিনে নেওয়ার সময়ই সবাই জেনেছে। দ্বিতীয়ত হলো, শিল্প-কারখানায় ব্যাপক অটোমেশন হতে পারে। কিন্তু দুটি ব্যাখ্যার একটিও ঘটেনি। জাহিদ হোসেন ইতি টানেন এভাবেÑ‘হয় প্রবৃদ্ধির হিসাবটি ভুল, না হয় জরিপটি ভুল।’
শিল্পের সংখ্যা বৃদ্ধির উপায়
এক. দেশে প্রতি বছর শিক্ষিত কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ লাখ। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে কর্মসংস্থান ঘটেছে মাত্র এক থেকে দুই লাখ করে। বিশাল জনশক্তি আমাদের বেকার। বিগত কয়েক বছর গড়ে কর্মসংস্থান হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার মাত্র। বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানা বৃদ্ধি না হওয়ার কারণে দেশের বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদেশেও জনশক্তি রফতানিতে আমরা আমাদের টার্গেট পূরণ করতে পারিনি। মধ্যপ্রাচ্যসহ সব দেশে জনশক্তি রফতানি বেশ কম হয়েছে। বেকারত্ব দূর করার জন্য বড় ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই।
দুই. বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার নানা কারণ রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ, গ্যাস বিদ্যুৎসহ জ্বালানি খাতের স্বল্পতা ও মূল্য বৃদ্ধি। আমাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি হওয়ার কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে উদ্যোগক্তারা বাধ্য হয়েছেন। শিল্প খাতে গ্যাসের ও বিদ্যুতের মূল্য কমাতে হবে। নতুন করে বিশেষভাবে ব্যবস্থা নিয়ে শিল্প খাতে গ্যাসের ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি না করার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে আগামীতে আরও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
তিন. বড় ও মাঝারি শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আরও একটি বড় কারণ হচ্ছে ব্যাংকের ঋণের সুদের হার অত্যধিক। পৃথিবীর কোনো দেশে ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ১৬ শতাংশ নেই। সারা বিশ্বে ব্যাংকের সুদের হার দুই থেকে চার শতাংশ মাত্র। অথচ আমাদের দেশে ব্যাংকের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত। সরকার ও ব্যাংক মালিকরা সুদের হার ৯ শতাংশ ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকগুলো তাদের খরচ না কমাতে পারলে সুদের হার কমাতে পারবে না। ব্যাংকে জমা টাকার সুদের হার যদি ১০ থেকে ১১ শতাংশ দিতে হয়, তা হলে বিনিয়োগে সুদের হার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক। সরকার সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১২ শতাংশের ওপরে রেখে ব্যাংকগুলোকে কীভাবে বলেন সুদের হার ৯ শতাংশ করতে। সরকারকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। তবেই ব্যাংকগুলো তাদের জমাকৃত অর্থের সুদ কম দিয়ে টাকা সংগ্রহ করতে পারবে। তখন কম সুদে শিল্পমালিকরা বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন। তখন শিল্প স্থাপনের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাবে।
চার. ঘুষ, দুনীতি, অনিয়ম আমাদের সমাজে সব স্তরে বেশ বিস্তার ঘটেছে। তাই শিল্প খাতের উৎপাদন খরচ প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে শিল্প স্থাপনের আগে কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে খরচ করে শিল্প স্থাপনের পূর্বের কাজগুলো করতে হয়; যা পৃথিবীর কোনো দেশে এত বেশি ঘুষ দিয়ে শিল্প স্থাপনের জন্য আসতে হয় না। জমি কিনতে, ব্যাংক ঋণ নিতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন নিতে, রাজউকের প্ল্যান পাস করতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে হয়। ঘুষের এই বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের সৎ ও দেশ প্রেমিক হতে হবে। ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কঠোর মনোভাবের কথা বলেছেন। এখন বাস্তবে সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরী ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করার সময় এসেছে। মাদক যেমন আমাদের গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। ঠিক তেমনি ঘুষ, দুর্নীতি অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এক সময় মানুষ ঘুষখোর দুর্নীতিবাজকে ঘৃণা করত। তখন কি ছেলেমেয়েদের বিবাহ পর্যন্ত ঘুষ ও দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে করত না। এখন ঘটনা উল্টো। ঘুষখোর ও অবৈধ পথে উপার্জিত ব্যক্তিদের সমাজে দাপট বেশি। এই চিত্রের পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যায়কে ঘৃণা করা আমাদের শিখতে হবে। ন্যায়কে ন্যায় বলতে হবে।

সাবেক সহসভাপতি, এফবিসিসিআই, বিটিএমইএ বিজিএমইএ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি
ও ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

সর্বশেষ..