প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বেকারিপণ্যের মান নিশ্চিত করুন

বেকারিপণ্যে আমাদের নির্ভরতা বাড়ছে। নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষ বিভিন্ন মানের বেকারিপণ্য গ্রহণ করছে প্রায় প্রতিদিন। অসুবিধা হলো, ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যগুলো ঠিক কী মানের কাঁচামাল ও কোন পরিবেশে এসব উৎপাদন করছে, তা নিয়মিত পরিদর্শনে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দেখা যায় না। এক্ষেত্রে তাদের যথেষ্ট সক্ষমতাও নাকি অর্জিত হয়নি। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কুড়িগ্রামে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারিপণ্য তৈরির কথা বলা হয়েছে। সেখানে প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বিএসটিআই’র অনুমোদন ছাড়াই জেলাটিতে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু বেকারি। যেগুলোর অনুমোদন রয়েছে একটি বা দুটি খাদ্যপণ্য উৎপাদনের, তারাও তৈরি করছে ৬০-৬৫ ধরনের খাবার; ব্যবহার করছে নিম্নমানের কাঁচামাল। নামে-বেনামে গড়ে ওঠা বেকারিগুলো মূলত টিনের ঘর, যেখানে ময়লা-আবর্জনার পাশেই অগ্রহণযোগ্য পরিবেশে কেক, বিস্কুট, প্যাটিস, রুটি প্রভৃতি তৈরি হচ্ছে। শ্রমিকদেরও নেই পরিচ্ছন্নতা রক্ষার বালাই। এ খবর আমাদের সঙ্গত কারণেই চিন্তিত করেছে; কেননা এ অবস্থা শুধু কুড়িগ্রামে নয়, সম্ভবত দেশজুড়ে।

আমাদের বেকারিপণ্যের কিন্তু সুনাম রয়েছে। এর কিছু রফতানিও হয়ে থাকে। বেকারিশিল্পে করপোরেট প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করেছে। ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো বেকারিপণ্য উৎপাদনে একটি মান বজায় রাখে, সে বিশ্বাস আমরা করতে চাই। তবে সেগুলোও মনিটর করা উচিত নিয়মিত। পাড়া-মহল্লায় যেসব ছোটখাটো বেকারি রয়েছে, সেগুলো যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গেই তদারক করা উচিত। দেশজুড়ে এ ধরনের বেকারিতে নিন্মমানের কাঁচামাল ও অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসবের নিয়মিত ভোক্তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত যেসব মানুষ নিয়মিত পথের ধারে নিম্নমানের বেকারিপণ্য খেয়ে থাকেন, তারা রয়েছেন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এসব পণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, পণ্যের মেয়াদ, উপাদান কোনোটির তথ্যই থাকে না অনেক ক্ষেত্রে। নিম্নমানের আটা-ময়দা, পামঅয়েল, ক্ষতিকর স্যাকারিন, অপরিচ্ছন্ন চিনি, সোডা, পচা বা পরিবহনের সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ডিম ইত্যাদি দিয়ে খাদ্যপণ্য তৈরি করায় জনস্বাস্থ্য বড় ঝুঁকিতে পড়ছে। এছাড়া এসবে ব্যবহৃত প্রায় সব উপকরণই খোলা প্যাকেটের, অর্থাৎ এগুলোর মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।

বেকারিসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যই নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনা উচিত জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য খাতে সরকারের ব্যয় বাড়বে আরও। ক্রমবর্ধমান বেকারিশিল্পের উন্নয়নেও দেওয়া উচিত যথেষ্ট মনোযোগ। মানের প্রশ্নে হতে হবে আপসহীন। মানসম্মত বেকারিপণ্য রফতানিতে যদি আমরা সুনাম অর্জন করতে পারি, তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে মান বজায় রাখতে পারব না কেন? লোকবলের অভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত এ খাতে তদারক করতে পারে না, এ তথ্য কারও অজানা নয়; কিন্তু জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতে কোনো রকম ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি জনবল কমিয়ে হলেও এক্ষেত্রে এটা বাড়াতে হবে। বেকারিপণ্যে কাঁচামালের ন্যূনতম মান নিশ্চিতের পাশাপাশি কারখানা ও শ্রমিকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখায় দিতে হবে গুরুত্ব। তবেই মানুষ নির্দ্বিধায় বেকারিপণ্য গ্রহণ করতে পারবে; স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে তাতে।