শেষ পাতা

বেগম রোকেয়ার দেখানো স্বপ্ন পূরণ করেছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং নারীর ক্ষমতায়নের জন্যও বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে উঠছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। বেগম রোকেয়া নারী স্বাধীনতার যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, বাংলাদেশ সেই স্বপ্ন পূরণ করে বিশ্বদরবারে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে।

গতকাল সকাল ১০টায় ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বেগম রোকেয়া পদক ২০১৯ প্রদান এবং বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এবার বেগম রোকেয়া পদক পেয়েছেন বেগম সেলিনা খালেক, অধ্যক্ষ শামসুন নাহার, ড. নুরুন নাহার ফয়জুন্নেসা (মরণোত্তর), পাপড়ি বসু ও বেগম আখতার জাহান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন মেয়ে যদি আয় করে, তাহলে পরিবারে তার সম্মান থাকে। নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে সমাজে তার গুরুত্ব বাড়ে ও সম্মান নিশ্চিত হয়। নারীমুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য নারীশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বেগম রোকেয়া এ জন্যই নারীদের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে গেছেন। মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে ও উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে সরকার বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে বলেও জানান তিনি।

নারীদের শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দিতে জাতির জনক মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির জনক নারীদের জুডিশিয়াল সার্ভিসে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের সরকার হাইকোর্টে বিচারপতি নিয়োগের সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া সেনা, নৌ ও পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীতে নারীদের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রথমবারের মতো সচিব পদে নারীদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছি। ডিসি, এসপিসহ বিভিন্ন উচ্চপদে নারীদের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছি।’

উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ব্যাংকঋণসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে নারীদের জন্য সরকার আকর্ষণীয় সুযোগ রেখেছে। দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলেও নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সুযোগ করে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশের পাঁচ হাজার ৮০০ ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ট্রেডের জন্য নারীদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, গড়ে তোলা হয়েছে পলিটেকনিক সেন্টার।

নারীর ক্ষমতায়নের উদাহরণ হিসেবে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ সংসদের স্পিকার, ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও বিরোধী দলের নেতা সবাই নারী। এছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদেও নারীরা গর্বের সঙ্গে কাজ করছেন।

নারী নির্যাতন বন্ধে সমাজের প্রতিটি সদস্যকে সচেতন ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী নির্যাতন সামাজিক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা কাজ করছি। এর জন্য সবার সচেতনতা প্রয়োজন। শুধু আইন করে নারী নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় নারীর উন্নয়নে নীতিমালা চালু, যৌতুক ?নিরোধ আইন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন, নারীদের জন্য ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ভাতার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..