Print Date & Time : 23 June 2021 Wednesday 6:23 pm

বেড়েই চলছে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

প্রকাশ: April 17, 2021 সময়- 12:53 am

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বেড়েই চলছে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। কভিড মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দ্রুততম সময়ে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রেকর্ড ১৮.৩ শতাংশ বেড়েছে। ১৯৯২ সালে চীন জিডিপির হিসাব শুরু করার পর এটাই সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধির রেকর্ড। গতকাল শুক্রবার চীনের পরিসংখ্যান বিভাগ এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর: বিবিসি, নিউ ইয়র্ক টাইমস।

রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি সত্ত্বেও গতকাল প্রকাশিত এ তথ্য প্রত্যাশার চেয়েও কম। এ প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতিবিদেরা জিডিপি ১৯ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করছিলেন। করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি শুরুর পর চীনজুড়ে লকডাউন আরোপের পর গত বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের প্রবৃদ্ধি নেমে যায় ছয় দশমিক আট শতাংশে। আর সেটাকেই ভিত্তি ধরে এ বছরের জিডিপি হিসেব করেছেন অর্থনীতিবিদেরা।

চীনের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো অস্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। কারণ সেগুলো গত বছরের চরম দুর্বল সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

চীনের শিল্প উৎপাদন এক বছর আগের তুলনায় মার্চে বেড়েছে ১৪ দশমিক এক শতাংশ। আর খুচরা বিক্রি বেড়েছে ৩৪ দশমিক দুই শতাংশ। দেশটির শিল্প উৎপাদন মূলত রপ্তানি শক্তির ওপর নির্ভরশীল। আর কারখানাগুলো বৈদেশিক আদেশগুলো পূরণে ব্যস্ত রয়েছে।

এক বছর আগেও অবরুদ্ধ ছিল গোটা চীন, বন্ধ ছিল উড়োজাহাজ চলাচল। রাস্তাঘাট ও মহাসড়ক সবই বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে। এমন সময়ে বহু মানুষ ঘরে বসে কাজ করায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যায় কম্পিউটার স্ক্রিন ও ভিডিও কনসোলের। আর সেগুলোর একটি বড় অংশই তৈরি হচ্ছে চীনে। তাছাড়া চীনাদের তৈরি আসবাবপত্র, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিকস সরঞ্জামেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বিশ্বে।

চীনের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বড় অবদান রাখছে অবকাঠামো খাত। বিশাল বিশাল ভবন, সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ নির্মাণ স্বল্পমেয়াদি চাকরির ব্যবস্থা করেছে। সম্পত্তি কেনাবেচা দেশটির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি বাড়িয়েছে। তবে রপ্তানি ও সম্পত্তির বিনিয়োগ চীনের প্রবৃদ্ধিকে টেনে তুলতে পারে এ পর্যন্তই। দেশটি এখন তার ভোক্তাদের মধ্যে করোনাপূর্ব সময়ের খরচের অভ্যাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে চীনের রপ্তানি পণ্যের চাহিদা কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে চীনের নীতিনির্ধারকরা সম্পত্তির বাজার এবং করপোরেট খাতের উত্তাপ কমাতে মনোনিবেশ করেছেন। অর্থনীতিবিদরা এখন এমন একটি বিস্তৃত পুনরুদ্ধার কৌশল খুঁজছেন, যা রপ্তানি ও সরকারের ওপর কম এবং গ্রাহকদের ওপর বেশি নির্ভর করবে।

টিকাদান কার্যক্রমে ধীরগতি এবং লকডাউনের তাজা স্মৃতির কথা মনে করে চীনা ভোক্তারা খরচ কমিয়ে দিয়েছেন। রেস্টুরেন্টগুলো এখনও আগের অবস্থায় ফেরার জন্য লড়ছে। ওয়েটার, দোকানদার ও শিক্ষার্থীরা ‘প্রতিশোধমূলক ব্যয়’ শুরু করেননি। ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর দ্রুতই লকডাউন দিয়েছিল চীনের কর্তৃপক্ষ। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রেতারা।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ শন রোশে বলেন, চীনের পরিকল্পনা হচ্ছে কভিড ফের দেখা দিলে দমন করা। কিন্তু স্বেচ্ছায় অনেককে সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যাচ্ছে।

চীনের বৃহত্তম চাকরি-বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম ঝাও পিনের তথ্যমতে, এক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বিনোদন ও আবাসন খাতে অনেক বেশি চাকরির সুযোগ রয়েছে। তবে খরচাপাতির ব্যাপারে গৃহস্থালি খাত এখনও বেশ সতর্ক।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের এশীয় অর্থনীতি বিভাগের প্রধান লুইস কুজিস বলেন, এখনও বহু লোক নির্দ্বিধায়

ব্যয় করছেন না। কভিডের কারণে কিছুটা দুশ্চিন্তা হয়তো রয়েছে, তবে সাধারণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।