প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বেনজামিন গ্রাহাম: দ্য ইনটেলিজেন্ট ইনভেস্টর

পূর্ব প্রকাশের পর

এ বইয়ের প্রথম কয়েক সংস্করণে এ বিষয়ে বেশ কিছু কথা বলেছিলাম। তার কিছু অংশ এখনও প্রাসঙ্গিক। আবার কয়েকটি প্রাসঙ্গিকতা হাারিয়েছে সময়ের আবর্তনে। তবু আমি পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটতে চাই মূলত একটি কারণে। সেটি হলো, তাতে করে সময়ের কষ্টিপাথরে নিজ নিজ চিন্তা-ভাবনাকে যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্য দিয়ে চলতি প্রেক্ষাপটে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনাও মিলবে। অনেকের স্মরণ থাকতে পারে, ছয় বছর আগে লিখেছিলাম, ‘বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীর প্রথম কাজ হলো গোটা পোর্টফোলিওকে হাই-গ্রেড বন্ড ও ফার্স্ট ক্লাস শেয়ারে ভাগ করে ফেলা। এক্ষেত্রে বন্ডে বিনিয়োজিত অর্থ কখনোই ২৫ শতাংশের কম বা ৭৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। আবার পুঁজিবাজারের চলতি হাবভাব অনুসারে শেয়ারকেও মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের কম কিংবা ৭৫ শতাংশের বেশি হওয়া ঠিক হবে না। এখন কারও কাছে আমার কথা বিভ্রান্তিকর শোনালে, তাকে বলবÑ আপনি ৫০-৫০ অনুপাতে বন্ড ও শেয়ারের মধ্যে আপনার পোর্টফোলিওকে ভাগ করে নিন। যদি দেখেন, শেয়ারদর খুব উঁচুতে উঠে গেছে, বিনিয়োগ করবেন না ২৫ শতাংশের বেশি অর্থ। আবার যদি দেখেন বাজার অত্যন্ত নেমে গেছে, পোর্টফোলিও থেকে ৭৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে যাবেন না তবুও। পাশাপাশি সতর্ক করেছিলাম, দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের একটি বড় দুর্বলতা রয়েছে। তা হলো, এ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত সুদের হারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সুদের হার ওঠানামা করলে বন্ডের মুনাফা কমবেশি হয় সাধারণত। প্রথম সংস্করণে আমি কিছু অনুমান করেছিলাম। তার কয়েকটি বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে। বাকিগুলো নিশ্চিতভাবেই সময়ের কঠোর পরীক্ষার অপেক্ষায়। সেগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তার সুযোগ নেই। কেননা কালের পরীক্ষায় কারও বক্তব্য কিংবা কোনো তত্ত্বানুমানকেই একবিন্দু ছাড় নেই। ফলে কয়েক প্রজš§ গেলে পর বোঝা যাবে, কতটুকু সঠিক ছিল আমার পর্যবেক্ষণ। এক্ষেত্রে ভাবনার প্রধান কারণ, শেয়ারবাজারে সর্বদা যথেষ্ট মাত্রায় অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। সেজন্য নানা বিষয়ে আমার নিশ্চয়তার ঘাটতি থাকলেও আমি অন্তত এ বিষয়ে মোটামুটি নিশ্চিত যে, কখনওই অনুমান করা সম্ভব নয় একটি শেয়ারের ভবিষ্যৎ মূল্য। বন্ডে কিন্তু এ ঝামেলা নেই। বরং নানা প্রভাবক থাকা সত্ত্বেও বন্ডের দামে পরিবর্তন ঐতিহাসিকভাবেই শেয়ারের তুলনায় কম লক্ষণীয়। এর ব্যতিক্রম অবশ্যই আছেÑযেমন, ১৯৬৪ সাল-পরবর্তী সময়। তাই বিনিয়োগকারীর উচিত, নগদ সমতুল্য (ক্যাশ ইকুইভ্যালেন্ট) হাই-গ্রেড বন্ড ও ফার্স্ট ক্লাস ডিজেআইএ (ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ) ধরনের শেয়ারের মধ্যে কোন মাত্রায় বিনিয়োগ করবেন, তা সময়ে সময়ে নির্ধারণ। যদি দেখেন বাজার আপাতত খুব বেশি ওপরে ওঠার সম্ভাবনা নেই এবং আপনি একজন রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারী, শেয়ারে বিনিয়োজিত অর্থের পরিমাণ কমিয়ে বন্ডে ঢালতে পারেন। আমার হিসাব বলে, কোনো শেয়ারবাজার ঠাণ্ডা-গরমের মাঝামাঝি অবস্থান করলে একজন রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর পক্ষে বার্ষিক তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ হারে লভ্যাংশ তুলে নেওয়া সম্ভব; যেখানে গড় বার্ষিক উপচয় (অ্যাভারেজ অ্যান্যুয়াল অ্যাপ্রিসিয়েশন) হবে আনুমানিক চার শতাংশ। এখানে লভ্যাংশ প্রাপ্তির চেয়ে গড় বার্ষিক উপচয় বেশি হওয়ার কারণ, দেখবেন আগে থেকে অবতরণ করা কিছু শেয়ার পুনর্বিনিয়োগ করছে একশ্রেণির কোম্পানি। এটি আমলে নিলে অত্যন্ত অল্প গতিতে চলাকালে করসমেত ফার্স্ট ক্লাস শেয়ার থেকে আয় হবে মোটামুটি সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ; যা হাই-গ্রেড বন্ডের তুলনায় বেশ কম। আবার কর বাদ দিলে একই সময়ে উল্লিখিত শেয়ার থেকে মুনাফা আসে প্রায় পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ হারে; যে পরিমাণটি মিড-গ্রেড বন্ড থেকে প্রাপ্ত করমুক্ত রিটার্নের খুব কাছাকাছি। ফলে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিতÑ শেয়ার নাকি বন্ড।

প্রফেসর গর্ডনের একটা বিখ্যাত সমীকরণ আছে, যেকোনো শেয়ারের আগাম মুনাফা এর প্রত্যাশিত আয় প্রবৃদ্ধি ও প্রদত্ত চলতি লভ্যাংশের সমষ্টির সমান। সমীকরণটি রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর জন্য সীমিতভাবে উপকারী। সেজন্য বাজারের ‘প্রায় গতিহীন’ অবস্থায় রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর প্রথম কাজ হবে দীর্ঘদিন ধরে লাভের রেকর্ড রয়েছে এমন এবং বর্তমানে আর্থিক অবস্থা ভালো, তেমন কোম্পানির শেয়ারে আশ্রয় নেওয়া। ওই তালিকা তৈরি করা কঠিন হবে না। নিজেকে সিকিউরিটিজ অ্যানালিস্ট দাবি করেন, এমন যে কারও পক্ষে সেটি সহজে তৈরি করা সম্ভব। আগেই বলে নিই, এ প্রেসক্রিপশনটি কিন্তু আক্রমণাত্মক তথা সক্রিয় বিনিয়োগকারীর খুব একটা কাজে আসবে না। প্রশ্ন তুলতে পারেন, তাহলে রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর জন্য এ প্রেসক্রিপশন কেন? এর তিনটি কারণ রয়েছে: এক. সক্রিয় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিজে বাজার যাচাইপূর্বক প্রস্তুত করেন স্বতন্ত্র পোর্টফোলিও; যেখানে রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর মূল ভরসা জানা কোম্পানির ভালো শেয়ার। আর এক্ষেত্রে প্রধানত গুরুত্ব দেওয়া হয় বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত কমন ট্রাস্ট ফান্ডকে। দুই. বিনিয়োগ অনুশীলনে মানদণ্ড অনুসরণই রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর রক্ষাকবচ। এখানে নির্দিষ্ট মানদণ্ড রাখায় মুনাফা গড়ের চেয়ে বেশি না হলেও মুনাফার পথ থেকে সেভাবে বিচ্যুতও হন না রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারী। তিন. বুদ্ধিমান রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীরা ফর্মুলা ইনভেস্টিংয়ের প্রতি ঝুঁকে থাকেন সাধারণত। ফর্মুলা ইনভেস্টিংয়ের ইয়া লম্বা এক সংজ্ঞা রয়েছে। সে সংজ্ঞার সমর্থনে দীর্ঘ সমীকরণও আছে। তবে সাধারণ পাঠকের বোঝার সুবিধার্থে আমি এর নাম দিয়েছি ‘ডলার-কস্ট অ্যাভারেজিং’। অর্থাৎÑ সাধ্যে কুলায় এমন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিয়ম করে শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাওয়া, যেন প্রতি মাসে অর্থের পরিমাণ একই থাকে ওই বছরের জুলাইয়ে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হবে, সেই একই পরিমাণ অর্থ যেন বিনিয়োজিত হয় ডিসেম্বরেও। এভাবে বিনিয়োগ করার সুবিধাজনক দিক হলো, এতে দাম পড়তি থাকলে বেশি শেয়ার কেনা যায়; ওঠানামা মিলিয়ে মুনাফাও প্রায় স্থিতিশীল থাকে বছর শেষে। ফলে ১৯৪৯ সালে যেমন লিখেছিলাম, এখনও তেমনই মনে করি বাজার বুঝে একজন বুদ্ধিমান রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর শেয়ারে বিনিয়োগ তার পোর্টফোলিও ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ হওয়া উচিত।

কেমন ফল প্রত্যাশিত সক্রিয় বিনিয়োগকারীর কাছে

খেয়াল করুন, রক্ষণাত্মক বিনিয়োগকারীর লক্ষ্য থাকে গড় ফল করা। অথচ উদ্যোগী বা সক্রিয় তথা আক্রমণাত্মক বিনিয়োগকারী বাজারে নামেনই সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে। আর তা করতে গিয়ে অনেকে ভুলে যান, একজন বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীর প্রথম কর্তব্য ভালো হোক বা না হোক, তার সিদ্ধান্ত যেন ‘অফল’ বয়ে না আনে। ওয়ালস্ট্রিটের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আমি বহু পরিশ্রমী, পড়াশোনা করা ও ঈশ্বরপ্রদত্ত মেধা নিয়ে জš§ানো সক্রিয় বিনিয়োগকারীকে দেখেছি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যর্থদের কাতারে শামিল হতে। তাই সাধু সাবধান! শারীরিক ও মানসিক শ্রম দেওয়ার ক্ষমতা নিঃসন্দেহে বড় গুণ। তবে এ গুণগুলোই ভুল পথে পরিচালিত হলে মেধার সঙ্গে প্রতিবন্ধিতার কোনো পার্থক্য থাকবে না কিন্তু। আর সঠিক পথে চলতে স্বচ্ছ দৃষ্টি ও পরিষ্কার-ঠাণ্ডা মাথা থাকা আবশ্যক। আমি অবশ্য একটা তালিকা তৈরি করেছি, ‘আক্রমণাত্মক বিনিয়োগকারীরা সুফল পেতে পারেন যে যে পন্থায়’ শিরোনামে:

এক. বাজার বাণিজ্যের মাধ্যমে: এক্ষেত্রে একজন আক্রমণাত্মক বিনিয়োগকারী বাজার সম্মুখগতি প্রাপ্ত হলেই শেয়ার কিনতে শুরু করেন এবং তা পশ্চাৎগতি পাওয়া মাত্র শুরু করেন শেয়ার বেচা। এখানে আক্রমণাত্মক বিনিয়োগের কৌশল হচ্ছে, বাজারে দীর্ঘদিন ভালো পারফর্ম করা শেয়ারগুলোকে চোখে চোখে ও হাতে হাতে রাখা। পরবর্তী সময়ে সুযোগ পাওয়ামাত্র উপর্যুপরি শর্ট সেলিংয়ে লিপ্ত হন এই শ্রেণির বিনিয়োগকারী। লক্ষ করুন, তাদের হাতে থাকা শেয়ারগুলো কিন্তু তাদের নয়, ধার নিয়েছেন অন্যের কাছ থেকে। এসব শেয়ার সাধারণত চড়া দামে বিক্রি করে দেন তারা। পরে দাম কমলে নিজেরা আবার কিনে নেন ওইসব শেয়ার।

দুই. শর্ট-টার্ম সিলেক্টিভিটির মাধ্যমে: এক্ষেত্রে কব্জা করা হয় সেসব শেয়ার, সম্প্রতি যেগুলোর পক্ষে ইতিবাচক রিপোর্টিং হয়েছে অথবা ওই কোম্পানির আয় বেড়েছে বা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে।

তিন. লং-টার্ম সিলেক্টিভিটির মাধ্যমে: এক্ষেত্রে ধরা হয়, মুনাফা প্রদানের বেলায় যেসব কোম্পানির অতীত রেকর্ড অসম্ভব ভালো কিংবা যেখান থেকে অচিরেই ভালো মুনাফা আসার সম্ভাবনা জাজ্জ্বল্যমানÑ হতে পারে তা ফার্মাসিউটিক্যালস বা আইটি কোম্পানি কিংবা প্রতিশ্রুতিশীল গবেষণায় নামা কোনো প্রতিষ্ঠান।

প্রথম কথা হলো, সিদ্ধান্তের নিরাপত্তা ও সন্তোষজনক মুনাফার সম্ভাবনা বিনিয়োগের অন্যতম শর্ত। বাজারবাণিজ্য এর দুটিই লঙ্ঘন করে। ফলে বাজারবাণিজ্য আমার পছন্দনীয় পদ্ধতির মধ্যে পড়ে না। বাকি রইলো দুই অপশনÑস্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাময় কোম্পানি বাছাই। আর সে সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে গিয়ে আক্রমণাত্মক বিনিয়োগকারীরা মূলত দু’ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার হন: প্রথমত, মানুষের স্বাভাবিক ভ্রমপ্রবণতা তথা ভুলের প্রতি মানুষের অনিচ্ছাকৃত ঝোঁক; দ্বিতীয়ত. বাজারি প্রতিযোগিতার প্রকৃতিগত ত্রুটি। মানুষের ভ্রম প্রবণতার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ অনুমানের হিসাব-নিকাশ করতে গিয়ে ভুল করে ফেলা প্রভৃতি। আর প্রতিযোগিতার প্রকৃতিগত ত্রুটি হলোÑতিনি যদি সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেনও, অন্য কেউ যে একই অনুমান করছে না; সে গ্যারান্টি কোথায়? উদাহরণ হিসেবে বলা যায়Ñঅনেক কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে আপনার মনে হলো অমুক কোম্পানি স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে বেশ সম্ভাবনাময়। এখন কী করে নিশ্চিত হবেন যে, এ আবিষ্কার আপনার একার! অন্য কেউ বুঝতে পারছে না একই কোম্পানির সম্ভাবনা!

একটা বিষয় লক্ষ করেছি। বিরল হলেও প্রমাণ রয়েছে যে, কোনো একক বিনিয়োগকারী সফলভাবে বাজারের ভবিষ্যৎ আগাম ধরতে পারছেন। কিন্তু আমি এমন কোনো ঘটনাই জানি না, যেখানে যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে একদল বিশেষজ্ঞ সঠিকভাবে অনুমান করতে পেরেছেন বাজারের ভবিষ্যৎ। এর অন্যতম কারণ বলে আমার মনে হয়েছে, ভবিষ্যদ্বাণী করা সিংহভাগ শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞের কাছেই নেশার মতো খেলা আর মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ীই সে গণ্ডির মধ্যে কারও অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করেন না তিনি। সেজন্যই সম্ভবত অনেক বিশেষজ্ঞ বাজারসংক্রান্ত অভিযোগ নিজে বাদ দিয়ে অন্য কারও মুখে শোনামাত্র হেসে উড়িয়ে দেন; খতিয়ে দেখারও প্রয়োজন বোধ করেন না, তা সত্য না মিথ্যা। সেজন্য বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীদের আমি বলি, মনে মনে ভালোমতো যাচাই করে দেখুনÑআপনার চিহ্নিত কোম্পানিটি আসলেই প্রতিশ্রুতিশীল কি না। একই সঙ্গে খেয়াল করুন, বিশেষজ্ঞরা উক্ত কোম্পানির সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহী কি না। যদি দেখেন বিশেষজ্ঞরা উচ্ছ্বসিত, ভুলেও বিনিয়োগ করবেন না সেখানে। আবার যদি দেখেন, অন্ধ কুসংস্কারের বশে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী কোনো শেয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না, জলদি অনুসন্ধান করুন।

সর্বদা মাথায় রাখতে হবে, যেকোনো জিনিসের মূল্য ও দামের মধ্যে পার্থক্য আছে। এবং কখনও শেয়ারবাজারে একদল বোকা মানুষ পেয়ে তাদের মাথায় কাঁঠাল ভাঙতে যাবেন না। কেননা কোনো বাজারের নিয়ন্ত্রণকারীরা যদি একটু সজাগও থাকে, দিনেদুপুরে একদল বোকা ফাটকাবাজের হাত থেকেও অর্থ লুটে নেওয়া কঠিন। কেননা বিক্রেতার অবমূল্যায়িত শেয়ার কিনে মুনাফা করা অত্যন্ত

শ্রমসাধ্য কাজ। এক্ষেত্রে শর্ট সেলিং অনেকটা কার্যকর ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। তবে অবমূল্যায়িত শেয়ারকে অতিমূল্যায়িত করে বিক্রির জন্য কেবল শেয়ালের মতো সাহস ও হায়েনার মতো উদ্যমই যথেষ্ট নয়, এজন্য হাতি-প্রমাণ মানিব্যাগও থাকা চাই। আরেকটি বিষয়, এ ধরনের ‘কর্মে’ হাত পাকাতে সময় লাগে।

আক্রমণাত্মক বিনিয়োগকারীর জন্য আরেক সুযোগ, ‘বিশেষ পরিস্থিতি’র সুবিধা তুলে নেওয়া। সে অবস্থায় গড়ে বার্ষিক ২০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেতে পারেন বিনিয়োগকারী। ঝামেলা হলো, মাঝেমধ্যে তেমন বিশেষ পরিস্থিতির জন্য কয়েক বছরও অপেক্ষা করতে হতে পারে। আর সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় সংরক্ষিত হেজ ফান্ডের মতো প্রতিষ্ঠানকে বাজার উপযোগীভাবে তরল (লিকুইড) করা হলে। তবে একালে বিশেষ পরিস্থিতির পরিচিত ঘটনা হচ্ছে এক কোম্পানি কর্তৃক অন্য কোম্পানির অধিগ্রহণ অথবা একাধিক কোম্পানির একীভূতকরণ। অতীতে সক্রিয় বিনিয়োগকারীদের কাছে মুনাফা অর্জনের জনপ্রিয় তত্ত্ব ছিলÑকম দামে কেনো, বেশি দামে বেচো। আরেক জনপ্রিয় তত্ত্ব হলো ডাউ থিওরি। দুর্ভাগ্যবশত, এ দুই তত্ত্বের একটি অকেজো হয় ১৯৪৯ সালে; অন্যটি ১৯৩৪ সালে। তত্ত্বগুলো কার্যকর থাকলে এ অধ্যায়টি আরেকটু দীর্ঘ করা যেত।