দিনের খবর

বেনাপোলে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু

পরিবহন শ্রমিককে মারধর, বাস কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে আজ শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা। এর ফলে শত শত পাসপোর্টধারী যাত্রী স্থলবন্দরে আটকা পড়েছে।

আজ শনিবার সকালে হামলা মারধরের জন্য দায়ী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে শ্রমিকরা বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। শ্রমিক সংগঠনগুলো এই বিক্ষোভে শামিল হওয়ায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপূর্ব হাসান। তিনি বলেন, ‘হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনাটি দুঃখজনক। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে সফল করার জন্য গতকাল শুক্রবার বিকেলে বেনাপোল পৌর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বন্দর এলাকায় মিছিল বের করে। মিছিলটি যখন বেনাপোল পরিবহন স্ট্যান্ডে আসে, তখন রাস্তার পাশে রাখা গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাসের বক্সে ল্যাগেজ উঠাচ্ছিলেন মোহন (৩৫) নামের একজন শ্রমিক।

এ সময় পরিবহন শ্রমিক মোহনের সঙ্গে এক ছাত্রলীগকর্মীর ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি হয়। পরে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী এসে উত্তেজিত হয়ে পরিবহন শ্রমিক মোহনকে মারধর করে।

মোহনকে বাঁচাতে এসে বাসচালক জামাল, সুপারভাইজার আলাল ও চালকের সহকারী লিয়াকতও কর্মীদের মারপিটের শিকার হন। পরে ছাত্রলীগকর্মীরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ক্যাম্পের সামনে থাকা গ্রিনলাইন পরিবহনের কাউন্টারে ভাঙচুর চালায় বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করে।

ঘটনার ব্যাপারে আজ শনিবার সকালে বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বেনাপোলের সব পরিবহন শ্রমিক সংগঠন বৈঠকে বসে সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটক না করা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে জানান ব্যবস্থাপক রবীন।

এ দিকে বন্দর এলাকায় কোনো ধরনের পরিবহন চলাচল না করায় ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা এবং ভারতগামী শত শত পাসপোর্টধারী যাত্রী ওই এলাকায় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

সর্বশেষ..