প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বেনাপোলে বৃষ্টিতে আমদানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত

শেয়ার বিজ প্রতিনিধি, বেনাপোল: গত দুদিনের অবিরাম বর্ষণে বেনাপোল স্থলবন্দরের অধিকাংশ পণ্যদ্রব্য পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া খোলা আকাশের নিচে রাখা কোটি কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হতে শুরু করেছে। ফলে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। শনিবার সকাল থেকে সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বন্দরে ছয় হাজার টন চাল আটকা পড়েছে।

বন্দরে পানি নিষ্কাশনের কোনো ভালো ব্যবস্থা না থাকায় বন্দরের ইয়ার্ডে রাখা পণ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পানিতে। খোলা আকাশের নিচে অযতœ-অবহেলায় রাখা এসব পণ্য পানিতে ডুবে গেছে। কোনো কোনো গুদামে পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে পণ্যদ্রব্য। বর্ষায় অযতœ-অবহেলায় বন্দর অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত পণ্যদ্রব্য নষ্ট  হলেও কর্তৃপক্ষের যেন কোনো মাথাব্যথা নেই। এমন অব্যবস্থাপনার কারণে  ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা এ বন্দর থেকে মুখ্য ঘুরিয়ে নিচ্ছেন। ফলে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ক্রমেই আমদানি বাণিজ্য কমতে শুরু করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে বন্দরের ভেতরে হাঁটুপানি জমে যায়।

পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনগুলো পানির গর্তে আটকে যাচ্ছে। পণ্যাগারের প্রবেশমুখেও হাঁটু সমান পানি। সেখানে পায়ে হেঁটে যাতায়াতেরও কোনো সুযোগ নেই।

বন্দরে মাত্র ৪২টি পণ্যাগার রয়েছে; একটি রফতানি টার্মিনাল ও একটি ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল। বন্দরে পণ্য ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার মেট্রিক টন। অথচ সারা বছরই বন্দরে পণ্য রাখা হচ্ছে অন্তত ৮০ হাজার টন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, দেশের সর্ববৃহৎ এ স্থলবন্দর থেকে সরকার বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। অথচ এ বন্দরের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রায় এক যুগ ধরে এখানে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। আগে ভারত থেকে প্রতিদিন ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো এ বন্দর দিয়ে। বর্তমানে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০ টনে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গত দুদিনের অবিরাম বর্ষণে বন্দরের ওপেন ইয়ার্ডের পণ্যাদি পানির নিচে চলে গেছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থা মোটেও ভালো নয়। তবে পানি বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।