প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বেনাপোল কাস্টমসে ৪৫৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়

বিদায়ী অর্থবছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল কাস্টম হাউসে বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে গত ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। আদায় প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে এ কাস্টম হাউসে রাজস্ব আদায় হয়েছে চার হাজার ৫৯৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আর আগের অর্থবছর আদায় হয়েছিল চার হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বেশি আদায় হয়েছে ৪৫৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

কাস্টমস বলছে, দেশের এ বৃহৎ স্থলবন্দর দিয়ে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় বিভিন্ন রাসায়নিক ও খাদ্যদ্রব্য। কিন্তু এ বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআরের অফিস নেই। পণ্য পরীক্ষা বিলম্বিত হওয়ায় রাজস্ব কম আদায় হচ্ছে। এ ছাড়া খাদ্যদ্রব্য ও রাসায়নিক পণ্য খালাসে জটিলতা ও অধিক শুল্কের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টম হাউস সূত্রমতে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ছয় হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের শেষ দিকে লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৮৭ কোটি টাকা কমিয়ে পাঁচ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় হয়েছে চার হাজার ৫৯৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যার ফলে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ কোটি আট লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেশি হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আদায় হয়েছে চার হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। আর সদ্যবিদায়ী অর্থবছর তার তুলনায় ৪৫৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

অন্যদিকে বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের জুন মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে গত অর্থবছরের জুনের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭৫ কোটি টাকা, যেখানে আদায় হয়েছে ৪৬৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আদায় হয়েছে ১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ২০২১ সালের জুন মাসে আদায় হয়েছিল ৩৭৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আর বিদায়ী অর্থবছরের জুন মাসে আদায় হয়েছে ৪৬৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত বছরের জুনের চেয়ে এ বছরের জুনে বেশি আদায় হয়েছে ৮৫ কোটি আট লাখ টাকা, যা প্রবৃদ্ধি আকারে ২২ দশমিক ৪০ শতাংশ।

কাস্টম হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আমদানি করা রাসায়নিক ও খাদ্যদ্রব্য থেকে বেশি রাজস্ব আদায় হতো। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে বিএসটিআই ও বিএসআইআরের অফিস না থাকায় এ ধরনের পণ্য নিয়ে ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েন। ফলে তারা এসব পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে।