সম্পাদকীয়

বেনাপোল বন্দরে চোরাচালান রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

দেশের স্থলবন্দরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বেনাপোল। কিন্তু চোরাকারবারিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে এ বন্দর। শক্তিশালী চক্র বন্দরগুলোয় এখন ভীষণ সক্রিয়। তারা এতই ক্ষমতাধর, তাদের বিরুদ্ধে কখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।

ভারত থেকে আসা বিভিন্ন পণ্য শুল্ক ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ট্রাকে তল্লাশিও হচ্ছে না। চোরাকারবারিরা মিথ্যা ঘোষণায় চোরাইপণ্য আনছে, আবার গোপনেও পণ্য আনছে। এভাবে প্রতিদিন কাপড়, কাগজ, মসলা থেকে শুরু করে মাদকদ্রব্য, মধ্যস্বত্বভোগী দালাল, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থা, এনবিআরের একশ্রেণির অসৎ কর্মকর্তা ও চোরাকারবারিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শক্তিশালী চক্র চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে। গতকাল দৈনিক শেয়ার বিজে ‘বেনাপোল বন্দর ঘিরে সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট’ শীর্ষক প্রতিবেদন বন্দর ব্যবহারকারীদের হতাশ করবে বৈকি।

অনেকের ধারণা, কাস্টম কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়েই চোরাচালানিরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালানিদের সঙ্গে বোঝাপড়ার জন্য অভিযুক্ত কাস্টম কর্মকর্তাদের রদবদল করেও তেমন একটা লাভ হয়নি। শুল্ক ফাঁকির বিষয় বিল অব এন্ট্রিতে ধরা পড়লেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে গোপন সমঝোতায় বা চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সেসব পণ্য ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। কেউ ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ে, কেউ কাস্টমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয়ে অবৈধভাবে আমদানি পণ্যের চালান ছাড় করিয়ে নিচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাস্টমস বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে এনবিআরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকছে।

ভারতীয় ট্রাকে করেও আনা হচ্ছে বিভিন্ন পণ্য। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বেনাপোলের বেশ কিছু চিহ্নিত ট্রাকচালক প্রতিদিন অবৈধভাবে রপ্তানি বোঝাই পণ্য নিয়ে ভারতে যায়। ফেরার পথে ভারতের বনগাঁও ও কলকাতার ট্রাকচালকদের সঙ্গে সখ্য করে ওষুধ, কসমেটিকস, মাদকদ্রব্য, পোশাক, শাড়ি, থ্রিপিস, খাদ্যদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতীয় ট্রাকের কেবিনে লুকিয়ে বহন করে বেনাপোল বন্দরে নিয়ে আসছে।

চোরাচালানি চক্রের দৌরাত্ম্যে বৈধ আমদানিকারকরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক আমদানিকারকই বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য আমদানি না করে চট্টগ্রামে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জরুরি ভিত্তিতে এনবিআরকে ব্যবস্থা নিতে দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।

বৈধ রুটে আমদানি করা ট্রাকে চালকের কেবিনে চোরাচালানি পণ্য বহন করা হয়। বন্দরের ভেতর প্রতিটি শেডে বহিরাগতরা অবৈধভাবে অবস্থান নেয়।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারও স্বীকার করেছেন, চোরাচালানি চক্রের কারণে বৈধ আমদানিকারকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বন্দরে। বন্দর ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিষয়টি আমলে নিতে হবে। বন্দরের অভ্যন্তরে আকস্মিক অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে অনুনোমোদিত লোকদের অবাধ বিচরণ ও দৌরাত্ম্য কমবে। প্রয়োজনে চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। চোরাকারবারিরা সব বন্দরেই তৎপর। বেনাপোলসহ সব স্থলবন্দরকে ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..