সম্পাদকীয়

বেনাপোল স্থলবন্দরের কার্যক্রম ডিজিটাল হোক

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য নিয়ে অনেক ভারতীয় ট্রাক ও কার্গো আসে। অনুরূপভাবে দেশ থেকে পাঠানো হয় পণ্যসামগ্রী। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রায় সবটাই স্থল ও নৌপথে হয়। স্থলপথে সিংহভাগ বাণিজ্য এ বন্দর দিয়েই হয়। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে ‘চলছেই সনাতন পদ্ধতিতে পণ্য খালাস’ শিরোনামে খবরটি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকবে। এতে বলা হয়, আমদানি-রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাস্টমসহ সব পর্যায়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রম চললেও বেনাপোল স্থলবন্দরের কাজ চলছে সনাতন পদ্ধতিতে অর্থাৎ হাতেকলমে। এতে অনেকে অভিযোগ করেছেন, তাদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।

সরকার দেশে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে এ পদ্ধতি। এতে সুবিধা অনেক। ডিজিটাল লেনদেনে দুর্নীতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এজন্য অধিকাংশ করপোরেট প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ঢাকাসহ দেশের প্রধান বন্দরগুলোয় ইতোমধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। সেখানে এ বন্দরটির অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার জানেন না বলে খবর দুর্ভাগ্যজনক। সনাতন পদ্ধতির কারণে বন্দরে অপচয় হচ্ছে সময়। কারণ ছাড়াই আটকে থাকছে পণ্যবোঝাই ট্রাক বা কার্গো। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে অনেক পণ্য। এর প্রভাব বাজারে পড়ছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা অভিযোগ করেন, ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার না হওয়ায় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

লক্ষণীয়, বেনাপোল বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে এনবিআর একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে কর ফাঁকির সুযোগ বাড়ে বলেও জানানো হয় ওই গবেষণায়। সর্বোপরি ব্যবসায়ীদের স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসার জন্য বন্দরের সব কার্যক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়।

দ্রুত সময়ে আমদানি-রফতানি ও অধিক শুল্ক আহরণে কাস্টম কর্তৃপক্ষ বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করতে আগ্রহী। কিন্তু অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক না করে নানা কারণে সময় ক্ষেপণ করছে। এ ব্যাপারে বন্দরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, কার্যক্রম ডিজিটাল করতে প্রধান অফিসে কাজ চলছে। বেনাপোল বন্দরকে ডিজিটাল করতে ধীরগতি নয়, দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন সংশ্লিষ্টরা এটাই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..