প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

বেশিরভাগ কোম্পানির দর বাড়লেও দৌরাত্ম্য ছিল জেড ক্যাটেগরির

রুবাইয়াত রিক্তা:পুঁজিবাজারে টানা পতন ঠেকাতে গতকাল শেয়ার কেনার প্রবণতা বেশি ছিল। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৫৭ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। তবে গতকাল এ ক্যাটেগরির পাশাপাশি বি ও জেড ক্যাটেগরির শেয়ারও প্রায় সমান হারে কেনা হয়। বরং গতকাল দরবৃদ্ধিতে দুর্বল কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য বেশি ছিল, যে কারণে শেয়ারদর বৃদ্ধির তুলনায় সূচকের উত্থানের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল। সেইসঙ্গে ডিএস৩০ সূচকও নেতিবাচক অবস্থানে ছিল। গতকাল এ ক্যাটেগরির ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। বি ক্যাটেগরিতে বেড়েছে ৬৬ শতাংশ কোম্পানির দর। এন ক্যাটেগরিতে ৫৫ শতাংশ ও জেড ক্যাটেগরিতে বেড়েছে ৫৬ শতাংশ কোম্পানির দর। এর মধ্যে কোম্পানির কারাখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পরও আলহাজ্ব টেক্সটাইলের দর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে কোম্পানিটি দরবৃদ্ধির শীর্ষ দুইয়ে উঠে আসে। উৎপাদন বন্ধ থাকা একটি কোম্পানির দর এতটা বাড়ার কারণ জানা যায়নি। এছাড়া জেড ক্যাটেগরির বিডি ওয়েল্ডিং, এমারাল্ড অয়েল, জিল বাংলা সুগার মিল, শ্যামপুর সুগার মিল ও মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে অবস্থান করে। যদিও জেড ক্যাটেগরিতে অবস্থান করায় এসব কোম্পানি ডিএসইর দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় আসতে পারেনি।

গতকাল ১৭ শতাংশ লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে প্রকৌশল খাত। এ খাতে ৭২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। ন্যাশনাল টিউবসের সাড়ে ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় আট টাকা ১০ পয়সা। মুন্নু জুট স্টাফলার্সের সোয়া সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়, দরপতন হয় ৪৯ টাকা ২০ পয়সা। কপারটেকের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় এক টাকা ২০ পয়সা। ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রায় সাত শতাংশ বেড়েছে কে অ্যান্ড কিউ’র দর। ১২ শতাংশ লেনদেন হয় বিমা খাতে। এ খাতে ৬৮ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স দরবৃদ্ধিতে ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে আসে। লেনদেন হয় সাড়ে সাত কোটি টাকা। ১১ শতাংশ করে লেনদেন হয় ওষুধ ও রসায়ন এবং ব্যাংক খাতে। ওষুধ খাতে ৭২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। স্কয়ার ফার্মার সোয়া পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৭০ পয়সা। লিবরা ইনফিউশন দরবৃদ্ধিতে সপ্তম অবস্থানে ছিল। ব্যাংক খাতে অধিকাংশ কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল। যমুনা ব্যাংকের সাড়ে চার কোটি টাকা লেনদেন হলেও ৬০ পয়সা দরপতন হয়। বস্ত্র খাতে ৭৬ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের তালিকায় উঠে আসে পাঁচ কোম্পানি। এসব কোম্পানি হচ্ছেÑআলহাজ্ব টেক্সটাইল, খান ব্রাদার্স পিপি, কাট্টলি টেক্সটাইল, ভিএফএস থ্রেড ও এমএল ডায়িং। জ্বালানি খাতে ৬৩ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। প্রায় ১৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে গ্রামীণফোন লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে। কোম্পানিটির দর বেড়েছে এক টাকা ৮০ পয়সা। বাকি খাতগুলোর মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড ছাড়া অন্যগুলোতে দরবৃদ্ধির হার বেশি ছিল।  

সর্বশেষ..