কোম্পানি সংবাদ পুঁজিবাজার

বেশিরভাগ শেয়ারদর বাড়লেও সূচকে প্রভাব কম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের শেষদিনে গতকাল উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশিরভাগ শেয়ারদর বাড়া সত্ত্বেও খুব সামান্য ইতিবাচক হতে পেরেছে ডিএসইএক্স সূচক। ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ইতিবাচক হলের কমেেেছ ডিএস৩০ সূচক। এছাড়া গতকাল লেনদেনও কমেছে। মূলত: ছোট মূলধনি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচক সেভাবে ইতিবাচক হতে পারেনি। ডিএসইতে দর বেড়েছে ৪৯ শতাংশ কোম্পানির। কমেছে ৩৭ শতাংশ কোম্পানির। লেনদেনের শুরুতেই সূচকের উত্থান হয়। তবে সূচকের গতিতে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০ মিনিটের মধ্যে বিক্রির চাপ বাড়লে সূচকের পতন হতে থাকে। দুপুর ১টার পর ফের কেনার চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত দেড় পয়েন্টের মতো ইতিবাচক থাকতে পেরেছে বাজার। অন্যদিকে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ শেয়ারদর ও লেনদেন বাড়লেও প্রধান দুই সূচক কমেছে। তবে সিএসআই সূচক সামান্য ইতিবাচক ছিল।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এক দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৯৩৭ দশমিক ৮২ পয়েন্টে অবস্থান করে।
ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক দশমিক শূন্য পাঁচ পয়েন্ট বা দশমিক শূন্য চার শতাংশ বেড়ে এক হাজার ১৩৬ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক তিন দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা দশমিক ১৮ শতাংশ কমে এক হাজার ৭৫৫ দশমিক ২৩ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন ৩০৯ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৭২ হাজার ৭৩৪ কোটি ৫৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ডিএসইতে লেনদেন হয় ৩২৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৪৬ কোটি শূন্য তিন লাখ ৪৬ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে ১৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এদিন ১২ কোটি ৬০ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৩টি শেয়ার এক লাখ সাত হাজার ১৩৬ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫৪ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৩টির, কমেছে ১৩১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫০টির দর।
গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ন্যাশনাল টিউবস। কোম্পানিটির ১৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর বেড়েছে সাত টাকা ৪০ পয়সা। এরপরে বীকন ফার্মার ১১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে ৭০ পয়সা। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৫০ পয়সা। এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর সাত কোটি ৯৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর পতন হয় ৬০ পয়সা। স্টান্ডার্ড সিরামিকের ছয় কোটি ৭৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৪৯ টাকা ৩০ পয়সা। এছাড়া মুন্নু জুট স্টাফলার্সের ছয় কোটি ৫১ লাখ টাকা, কপারটেকের ছয় কোটি ৫১ লাখ টাকা লেনদেন হয়। সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের পাঁচ কোটি ৯৮ লাখ টাকার, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের পাঁচ কোটি ৫২ লাখ টাকা, এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ডের সোয়া পাঁচ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
১০ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে এসইএমএল লেকচার ইকুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড। ইনটেক অনলাইনের দর ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, সিলভা ফার্মার দর ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, কপারটেকের দর ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের দর সাড়ে সাত শতাংশ, স্টান্ডার্ড সিরামিকের দর সাত দশমিক ৪৫ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ছয় দশমিক ৬৬ শতাংশ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের দর সোয়া ছয় শতাংশ ও সি পার্ল রিসোর্টের দর পাঁচ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।
সাত দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। প্রাইম ফাইন্যান্সের দর ছয় দশমিক ২৫ শতাংশ, ইউনাইটেড এয়ারের দর পাঁচ দশমিক ৮৮ শতাংশ, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের দর পাঁচ দশমিক ৪০ শতাংশ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর সোয়া পাঁচ শতাংশ, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের দর তিন দশমিক ৯০ শতাংশ, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর তিন দশমিক ২৭ শতাংশ, ইউনাইটেড পাওয়ারের তিন দশমিক ২৭ শতাংশ, মুন্নু জুট স্টাফলার্সের তিন দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, যমুনা অয়েলের দর দুই দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে।
সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ১৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৯ হাজার ১২২ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮ দশমিক ১১ পয়েন্ট বা দশমিক ১২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ২২ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৫৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৮টির, কমেছে ৩৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর।
সিএসইতে এদিন ১৫ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার ১৩১ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬২৪ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসাবে লেনদেন বেড়েছে তিন কোটি ২১ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে ম্যারিকো। কোম্পানিটির লেনদেন হয় তিন কোটি ৪৬ লাখ টাকার, ডরিন পাওয়ারের ৯৫ লাখ টাকার, কপারটেকের ৬১ লাখ টাকার, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। ড্যাফোডিল কম্পিউটার্সের ৪৪ লাখ টাকার, ইফাদ অটোসের ৪১ লাখ টাকার, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৩৪ লাখ টাকার, সি পার্ল রিসোর্টের ৩৩ লাখ টাকার, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২৮ লাখ টাকার, খুলনা পাওয়ারের ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..