সম্পাদকীয়

বেশি দামে রেল কোচ কেনার ডিপিপি যাচাই করুন

দীর্ঘভ্রমণে নিরাপদ যাতায়াতে ট্রেন মানুষের প্রথম পছন্দ। পরিবেশবান্ধব ও অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশ রেলওয়েকে আধুনিক, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীসেবামূলক গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রেলের উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে ২০ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা আর চার ধাপে চলছে এর বাস্তবায়ন। কিন্তু এখানেও অনিয়মে ব্যয় বাড়ছে। গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি : ৩৮% বেশি দামে ২০০ কোচ কেনার প্রস্তাব রেলওয়ের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সবার মনোযোগ কাড়বে।
এতে বলা হয়েছে, যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে ২০০ ব্রডগেজ কোচ কিনবে রেলওয়ে। এক্ষেত্রে প্রতিটি কোচের দাম পড়ছে ভ্যাট-শুল্ক ছাড়া ছয় কোটি ৩৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। চলমান প্রকল্পের চেয়ে এ ব্যয় ৩৮ শতাংশ বেশি। তাই প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এদিকে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) ঋণে কোচগুলো কেনার কথা। এজন্য ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) অর্থায়নের উৎস হিসেবেও বলা হয়েছে ইআইবি’র নাম।
রেলে কিছু অনিয়ম রয়েছে। বেশ সুযোগ থাকতেও রেলওয়েকে লাভজনক করা যায়নি। দুর্নীতি, চুরি ও অব্যবস্থাপনায় এটি প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারছে না। এ অবস্থায় বাজারমূল্য যাচাই না করে কোচগুলোর দাম নির্ধারণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থ লোপাট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আনা নিম্নমানের ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট-ডিইএমইউ (ডেমু) ট্রেন কেবল রেলকে বেকায়দায় ফেলেনি; যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এমন উদাহরণ থাকার পর রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের ঘটনা দুঃখজনক।
সোমবার অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অভিজ্ঞতা না থাকায় মেট্রোরেলের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থের কিছুটা অপব্যবহার হওয়া স্বাভাবিক। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই। রেলপথ নির্মাণে সবচেয়ে ব্যয়বহুল দেশ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে বাংলাদেশের। কয়েকটি প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয়ের প্রতিবেশী দেশগুলোর রেলপথ নির্মাণব্যয়ের বড় ব্যবধান থাকায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বছর কয়েক আগে। তখন বলা হয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি না থাকায় নির্মাণব্যয় বাড়ছে। এখন বেশি দামে রেল কোচ কেনা হলে প্রমাণ হবে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিইনি আমরা, এখনও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়নি। পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ৩৮ শতাংশ বেশি দামে ২০০ কোচ কেনার ডিপিপি এখনও যাচাই-বাছাই করে দেখার সুযোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত যাচাইয়ের পরই প্রস্তাবটি একনেকে উত্থাপিত হবে বলে প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..