Print Date & Time : 17 April 2021 Saturday 3:21 am

বেসরকারি উদ্যোগে টিকা দিতে নীতিমালা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: January 14, 2021 সময়- 10:29 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি উদ্যোগে নভেল করোনাভাইরাসের টিকা আমদানি এবং কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সচিবালয়ে করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকার মধ্যে ৫০ লাখ ডোজ বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে। সবকিছু ঠিক থাকলে টিকা প্রয়োগ শুরু করা হবে ফেব্রæয়ারির প্রথম সপ্তাহে।

বাংলাদেশ সরকারকে এই টিকা সরবরাহ করবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।  প্রতিষ্ঠানটি ফেব্রæয়ারি থেকে বেসরকারিভাবেও এই টিকা বিক্রি শুরু করবে বলে সম্প্রতি রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও করোনাভাইরাসের টিকা এনে তা দিতে পারবে। নীতিমালার মধ্যে সবকিছু থাকবে। তারা কীভাবে দেবে, কীভাবে হিসাব রাখবে, কী দামে দেবে এ বিষয়গুলো ঠিক করে দেবে। এটাও ঠিক করে দেয়া হবে হাসপাতালের মাধ্যমে কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেয়া যাবে।

মন্ত্রী জানান, নভেল করোনাভাইরাসের টিকা রাখার স্টোরেজের নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে। পুলিশ বা আনসার এর নিরাপত্তায় থাকবে। এটাও বলেছি, টিকা যেখানে রাখা হবে সেখানে ফ্রিজটা যেন সঠিকভাবে চালু থাকে। বিদ্যুৎ যেন ঠিকমতো থাকে, সেদিকেও নজর রাখা হবে।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ফাইজারের টিকার জন্য কোভেক্স থেকে যে চিঠি দেয়া হয়েছিল তার জবাব পাঠানো হয়েছে। কোভেক্স থেকে ফাইজারের টিকা পেতে আবেদন করতে বলা হয়েছিল। আমরা সে আবেদন করেছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি, প্রায় চার লাখ লোককে দেয়ার জন্য আট লাখ ডোজ টিকা পাওয়া যাবে।

এদিকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য ৪২ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বিকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভ্যাকসিন নিয়ে সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন দেয়ার জন্য আমরা ৪২ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এর মধ্যে টেকনোলজিস্ট, নার্স, মিডওয়াইফ ও ভলান্টিয়ার আছেন। ভ্যাকসিন যাতে সুন্দরভাবে দেয়া যায়, সেজন্য একটি অ্যাপস তৈরি করা হচ্ছে। আইসিটি মন্ত্রণালয় এটি তৈরি করছে। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি। অ্যাপসের মাধ্যমে ভ্যাকসিন প্রার্থী নিবন্ধন করতে পারবেন। সেখানে কিছু তথ্য দিলে তিনি নিবন্ধিত হবেন। পরে তিনি ভ্যাকসিন গ্রহণের সময় ও স্থান পাবেন। সেখানে নিয়ম মেনে উপস্থিত হলে ভ্যাকসিন নিতে পারবেন।

জাহিদ মালেক আরও বলেন, আমরা কাদের ভ্যাকসিন দেব, তা আগেও বলেছি। যারা ফ্রন্টলাইনার; যেমন চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, সাংবাদিক, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কাররা আগে পাবেন। আমরা ৫৫ থেকে বেশি বয়স্কদের পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন দেয়ার চিন্তাভাবনা করছি।

তিনি জানান, দেশজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার সাত হাজার ৩৪৪টি দল তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি দলে দুই টিকাদান কর্মী এবং চার স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে ছয় সদস্য থাকবেন। একটি দল প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ মানুষকে টিকা দিতে পারবে।

সারা দেশে টিকাদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি মনিটরিং সেল তৈরি করা হচ্ছে, যা শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানান তিনি। ‘ভ্যাকসিন সারা দেশে কী অবস্থায় আছে, কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, তাদের পরার্মশ দেয়ার কাজ করবে। প্রাইভেট সেকটরকেও মনিটরিং করবে।’ বাংলাদেশে থাকা বিদেশি নাগরিকদেরও টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা টিকা দেব।’