সম্পাদকীয়

বেসরকারি মেডিকেলে নিয়ম পরিপালন নিশ্চিত হোক

দেশে মোট জনসংখ্যার বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল। ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতি ১০ হাজার জনগোষ্ঠীর বিপরীতে বর্তমানে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র আটজন। এত স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে হলে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির হার বাড়াতে হবে। কিন্তু সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় শিক্ষার্থী ভর্তির সক্ষমতা নির্দিষ্ট। তাই প্রয়োজনের নিরিখে নানা সময়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন করেছে সরকার। কিন্তু বেসরকারি মেডিকেল কলেজে শিক্ষার মান নিয়ে বরাবরই নানা প্রশ্ন উঠতে দেখা যায়। আবার সরকার নির্ধারিত নানা শর্ত পরিপালন ছাড়াই চলছে অনেক মেডিকেল কলেজ; যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই সুচিকিৎসক তৈরি করতে হবে। আর সেটা করতে হলে নির্ধারিত গাইডলাইনগুলো অনুসরণ করা অপরিহার্য বলে মনে করি।

দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘নিয়ম মানছে না বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, পপুলার মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজসহ অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ সরকারের বেঁধে দেয়া নিয়ম-কানুন অনুসরণ করছে না। মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য মৌলিক যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলোও অনুসরণ করছে না এসব প্রতিষ্ঠান। ব্যাপারটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে ধরনের আয়তন, ফ্লোর স্পেস ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য যে পরিমাণ জায়গা দরকার, তা নিশ্চিত করছে না অধিকাংশ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। আবার কলেজ ক্যাম্পাসের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।

এসব অনিয়ম সুচিকিৎসক তৈরির পথে বড় ধরনের অন্তরায় বলেই প্রতীয়মান। কারণ এসব বিষয় একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর চিকিৎসক হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রধানতম অনুষঙ্গ। ফলে এসব সুযোগ-সুবিধা না থাকলে একজন শিক্ষার্থী কোনোভাবেই ভালো চিকিৎসক হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন না। কাজেই সরকার নির্ধারিত শর্তগুলো যাতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো ভালোভাবে পরিপালন করে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

আবার অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকের বেশ সংকট রয়েছে বলে জানা যায়। অধিকাংশ মেডিকেল কলেজে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষকও নেই। যে কোনো পেশার ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনে সুশিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু শিক্ষকই যদি না থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা শিখবেন কার কাছ থেকে?

এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, মেডিকেল শিক্ষা গতানুগতিক কোনো শিক্ষাব্যবস্থা নয়। মেডিকেল পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মানুষের রোগমুক্তি ও জীবন রক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত। কাজেই তাদের দক্ষতা অন্য যে কোনো পেশার মানুষের তুলনায় বেশি প্রয়োজন। এসব বিষয় মাথায় রেখেই বেসরকারি মেডিকেল পরিচালনা করা উচিত। পর্যাপ্ত সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে কোনো মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয়া উচিত নয় বলে মনে করি। জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেই প্রত্যাশা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..