প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা

 

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার কিছুটা সুযোগ করে দিতে ১০ শতাংশ ‘ফ্রি বেডের’ যে বিধান রয়েছে, তা অমান্য করে চলতে চাওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে রয়েছে উদ্বেগজনক তথ্য। দেশের ১৮১টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মাত্র ৩১টিতে রয়েছে এ সুবিধা। অনেক মেডিক্যাল কলেজেও এ ধরনের সুবিধা না থাকার খবর বিচলিত করবে পাঠকদের। বেসরকারি খাতে যারা হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছেন, তারা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই এমনটি করেছেন সন্দেহ নেই। এটা দোষের নয়। চিকিৎসা খাতে তাদের ভূমিকা অনুল্লেখযোগ্য বলেও কেউ মনে করেন না। এর পাশাপাশি তাদের লাইসেন্স গ্রহণের সময় করা অঙ্গীকার বা শর্ত মেনেই চলতে হবে, এটা স্মরণ করিয়ে দেওয়া বোধকরি জরুরি হয়ে পড়েছে।

সেবার ব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ফ্রি বেডে দরিদ্র রোগীদের ব্যাপকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলেও খবর দিয়েছেন প্রতিবেদক। এটাকে চিকিৎসা খাতের স্বাভাবিক চিত্র বলেই মানতে হবে। দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা যায় কি না, সে লক্ষ্যে বরং নজরদারি প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট বিধানে নাকি কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে চিকিৎসার অন্যান্য ব্যয় কীভাবে নির্বাহ হবে, সে বিষয়ে। ফ্রি বেডপ্রাপ্তি নিশ্চিত হওয়াটাই এক্ষেত্রে যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে না। দাতব্য হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো এক্ষেত্রে ঠিক কী নীতি অনুসরণ করছে, তারও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। শৃঙ্খলা হিসেবে কিছু ফি রোগী ও তার স্বজনদের কাছ থেকে গ্রহণ করাটা অবশ্য অসংগত হবে না। তারও নিয়মনীতি সুনির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে বিশেষভাবে প্রয়োজন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর কর্তৃপক্ষকে ১০ শতাংশ ফ্রি বেডের শর্ত পূরণে বাধ্য করা। বাধ্য করা না হলে তাদের কেউ শর্তটি মানেন না, তা অবশ্য নয়। যারা ইতোমধ্যে শর্ত পালন করে চলেছেন, তারা যে মুনাফা করতে পারছেন না, তাও কি বলা যাবে? এখানে মানসিকতা বা দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রি বেডপ্রাপ্তির বেলায় হাসপাতাল, ক্লিনিক তথা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে থাকলে সেটি রোধেও উদ্যোগী হতে হবে রেগুলেটরি অথরিটিকে। চাহিদার চাপ বেশি থাকায় এক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং সে বাবদ কিছু অর্থ ব্যয় হতে পারে দরিদ্র রোগীদের। সেটাও কাম্য হবে না। চিকিৎসা বাবদ অন্যান্য ব্যয়ের বিষয়টি স্পষ্ট করা এক্ষেত্রেও প্রয়োজন। জটিল রোগব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও শল্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যয় অনেক বেড়ে গিয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) আমাদের বলেছেন, ফ্রি বেডের শর্ত পালনসহ চিকিৎসাসেবার সবকিছু সুশৃঙ্খল করতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিধিবিধানে স্পষ্টতা আনার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে আমরা আশা করবো।