বেসামরিক মানুষ হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

কাবুলে ড্রোন হামলা

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শেষ হওয়ার কয়েকদিন আগে কাবুলে মার্কিন ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ নিরপরাধ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে উঠে আসে ওই হামলায় ১০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল ওই হামলায় জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামি স্টেটের আফগান শাখার কমান্ডার নিহত হয়েছেন। খবর: বিবিসি, গার্ডিয়ান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল কেনেথ ম্যাককেনজি বলেন, ২৯ আগস্টের হামলায় ত্রাণ সংস্থার এক কর্মী ও তার পরিবারের ৯ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজনই শিশু। সেদিনের হামলায় যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে একজন আহমেদ নাসের, তিনি মার্কিন বাহিনীর দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন; নিহত অন্য একজন কাজ করতেন আন্তর্জাতিক একটি সংস্থায়।

তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর কাবুল থেকে বিদেশি কূটনীতিক, সেনা ও তাদের সহযোগীদের সরিয়ে নেয়ার হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরে হওয়া এক আত্মঘাতী হামলার কয়েকদিন পর যুক্তরাষ্ট্র একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ওই ড্রোন হামলা চালিয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দারা প্রায় আট ঘণ্টা ওই ত্রাণ সংস্থার কর্মীর গাড়িটিকে অনুসরণ করেছিলেন; তাদের ধারণা ছিল গাড়িটি জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের স্থানীয় শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। গাড়িটিকে আইএস আইএস খোরাসানের (আইএসকে) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি কম্পাউন্ডে দেখা যায় এবং এর গতিবিধির সঙ্গে বিমানবন্দরে ফের হামলায় সন্ত্রাসীদের পরিকল্পনা নিয়ে অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেয়া তথ্যের মিল পাওয়া যায়।

একপর্যায়ে নজরদারি করা একটি ড্রোন গাড়ির আরোহীদের গাড়ির পেছনের ট্রাঙ্কে কিছু একটা তুলতে দেখে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, তারা বিস্ফোরক তুলেছে। পরে প্রমাণিত হয়, তা ছিল পানির কনটেইনার।

জেনারেল ম্যাককেনজি এ হামলাকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ অভিহিত করেন। তাদের গোয়েন্দা তৎপরতায় তালেবানের সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

সর্বশেষ..